ইসলামবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠতে হবে -মুহাম্মদ আবদুল জব্বার

ইসলামবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠতে হবে -মুহাম্মদ আবদুল জব্বার

জিহাদকে সন্ত্রাসবাদের সাথে জড়িয়ে হলুদ মিডিয়াগুলো নির্লজ্জ অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে মুসলিম মিল্লাতকে সোচ্চার হতে হবে। জিহাদ একটি পবিত্র শব্দ। এটি মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ইবাদত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার নাম জিহাদ। জিহাদের প্রকারভেদ রয়েছে। কখন কি ধরনের জিহাদে লিপ্ত হতে হবে তা কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যায় সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণিত আছে।

হলুদ মিডিয়াগুলোর নির্লজ্জ অপপ্রচার ও সরকারী নিরবতার সুযোগে সেক্যুলারিজমের ধ্বজাধারীরা কুরআন হাদীস সংরক্ষণকারীদের গ্রেপ্তার করে কথিত-জেহাদী বইসহ আটকের নাটক সাজাচ্ছে। আমাদের দেশসহ বিশ্বব্যাপী বিনা কারণে অন্যায়ভাবে নিরীহ মানুষের উপর আক্রমন করে কেউ কেউ ইসলামের কাজ বলে দাবী করলেও এটার নাম জিহাদ নয় বরং সন্ত্রাসবাদ। কারণ অন্যায়ভাবে কারো উপর হামলা ও মানবহত্যা ইসলাম সমর্থন করে না। তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামও নিরীহ মানুষের উপর অন্যায়ভাবে নির্মম হত্যাযজ্ঞকে কোনভাবেই সমর্থন করেননি। তাদের বর্বোরোচিত এই আচরণ ইসলামের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

তবে মজার বিষয় হলো এই যে, কোন ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হলেই ঢালাওভাবে সকল মুসলমানের উপর দোষ চাপানো হচ্ছে, এমনকি যেখানে সংঘটিত বর্বোরোচিত ঘটনা সমূহের সাথে কোন মুসলমান জড়িত নয় সেখানেও মুসলমানদের ভূমিকা রয়েছে বলে সংযোগ খুঁজে বের করার অপচেষ্টা চালানো হয়। যেমনিভাবে বাংলাদেশে সকল বর্বোরোচিত ঘটনার সাথে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরকে জড়ানোর চেষ্টা করে। তবে বাস্তবতা হলো আসল সত্য সময়ের পরিক্রমায় দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে উঠে। যেমন টুইন টাওয়ারসহ বিভিন্ন হামলার নেপথ্যে কারা ছিল তা বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়েছে।

মোদ্দাকথা এই যে, শিক্ষিত আলেম সমাজ ও মুসলমানদেরকে চলমান অজস্র অন্যায়ের সামনে মুখে আঙ্গুল দিয়ে বসে থাকলে হবেনা। সন্ত্রাস ও জিহাদ যে এক নয় একথা স্পষ্ট করে বলতে হবে। যদিও যারা ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথা বলছে তারা বিশ্বব্যাপী মুসলামানদেরকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করছে। সেসব তাদের দৃষ্টিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, তাদের প্রচারণার ভাবখানা ঠিক যেন এমন ‘আমরাই মানবাধিকারের রক্ষা কবজ’!