আওয়ামীলীগ চায় দাসের রাজ্য!! -আবদুল জব্বার

আওয়ামীলীগ চায় দাসের রাজ্য!! -আবদুল জব্বার

আওয়ামীলীগ গলা ফাটিয়ে প্রচার করছে সরকার মিডিয়া বান্ধব, গণমাধ্যমের উপর কোন হস্তক্ষেপ করছেনা! অথচ ওরা বরাবারই স্বাধীন মতামতকে দমন করার নীতিতে লিপ্ত হয়েছে। গঠনমূলক সমালোচনা তাদের কাছে অসহ্য!!

আওয়ামীলীগ মিডিয়া বান্ধবের নমুনাঃ
আওয়ামী সরকার ইতোপূর্বে চ্যানলে ওয়ান, দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন ও আমারদেশ পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগে বাংলা ভাষায় সম্প্রচারিত জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল পিস টিভি সম্প্রচারও বন্ধ করে দিয়েছে। সর্বশেষ র্শীষনিউজ ডটকম, আরটিএন, আমারদেশ, দৈনিক দিনকাল পত্রিকার অনলাইন সংস্করণসহ প্রায় ৩৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোন রকম কারণ দর্শানো ছাড়াই সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় ৩৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করার জন্য সরকার বিটিআরসি’কে নির্দেশ দিয়েছে।
সুত্রঃ দৈনিক যুগান্তর, http://goo.gl/OERZI0

আওয়ামীলীগের মিডিয়াবান্ধব নীতির পুরোনো নমুনাঃ
১৯৭৫ সালের ১৬ জুন মাত্র ৪টি পত্রিকা রেখে বাকী সকল পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে শত শত সাংবাদিকদেরকে পথে নামিয়ে দেয়া হয়েছিল।
সুত্রঃ দৈনিক দিনকাল, http://goo.gl/41j3c5

আওয়ামী সরকারের এমন একরোখা হটকারী সিদ্ধান্ত দ্বারা আবারো প্রমাণ করলো এরা ভিন্নমত ও সমালোচনাকে কোনভাবেই সহ্য করতে পারেনা। অথচ এসব অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতা করেছে। তারপরও এরা সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের শিকার হলো। জনগণের নিকট সরকারের দায়বদ্ধতা থাকলে সরকার এভাবে অনলাইন নিউজ র্পোটালগুলো বন্ধ করতে পারত না। একটি গণতান্ত্রিক দেশে গায়ের জোরে গণমাধ্যমের উপর এমন দলন-পীড়ন শুধু দুঃখজনকই নয় বরং এর মাধ্যমে এসবের সাথে জড়িত সাংবাদিকদেরকেও অপমানকর ও মানবেতর জীবন-যাপনের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ১৯৭৫ সালের মত পুনরায় হরণ করেছে। আসলে আওয়ামীলীগ সরকার এমন র্কমকান্ড চালিয়ে দেশে একদলীয় শাসন নিশ্চিতের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে যাদেরকেই সামান্য বাঁধা মনে করা হচ্ছে তাদেরকেই সরিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং তাদের উপর জুলুম-অত্যাচার চালাচ্ছে।

এখন যা ঘটবে মনে হচ্ছে-
সরকারের তৈল মর্দনকারী প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকবে। যেমন বর্তমান টকশোম্যানরা, কলাম লেখকেরা, হলুদ মিডিয়াগুলি ও এমপি-মন্ত্রীরা করছেন। আশেপাশের চেলা-চামুন্ডারা সার্বক্ষণিক প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকবে। সরকার আত্নতৃপ্তির জ্বরে আচ্ছন্ন থাকবে। গঠনমূলক সমালোচনার অভাবে, কর্তাব্যক্তিরা দেশের সঠিক হালচাল অবগত না হওয়ার কারণে কোনটি সঠিক ও কোনটি বেঠিক তা মালুম করতে পারবেনা। কোনটা জনগনের জন্য করা উচিৎ ও কোনটা করা উচিৎ নয় তাও মালুম করতে পারবেনা। ফলে দেশের জনগণের বারোটা বাজবে। আইন-শৃঙ্খলার মারাত্নক অবনতি ঘটবে। কিন্তু সবাই তোষামোদীতে ব্যস্ত থাকবে, সত্য ও সঠিক বিষয় ধামাচাপা পড়তে থাকবে, মিথ্যুক ও চাটুকাররা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হবে। একসময় এমন পরিস্থিতি শাসকগোষ্টীর জন্য কাল হয়ে দাড়াবে। অবশ্য যারা যে কোন মূল্যে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতে চায় তাদের জন্য দেশ ও জনগনের কিসে লাভ আর কিসে ক্ষতি তার হিসেব কষার সময় কোথায়? বাকস্বাধীনতা নয়,মানুষ নয়, তারা চায় দাসের রাজ্য!!