আদর্শহীন ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার রাজনীতি -মুহাম্মদ আবদুল জব্বার

আদর্শহীন ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার রাজনীতি -মুহাম্মদ আবদুল জব্বার

ছোটকালে বিজ্ঞজনদের কাছে শুনতাম “রাজার যে নীতি তাই রাজনীতি”। যেখানে রাজা জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করেন। তিনি জনগণের সুখে সুখী হন, দুঃখে দুঃখী হন। রাজাকে যেমন প্রজারা ভালবাসেন সম্মান করেন, রাজাও ঠিক তেমনি তাদের ভালোবাসেন ও সম্মান করেন। সেই ছোটকাল থেকে ভাবতাম যারা রাজনীতি করেন তারা দেশকে ভালবাসেন দেশের মানুষকে ভালবাসেন এবং দেশের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেন। তারা পৃথিবী থেকে প্রস্থান করলেও ঠিকই পৃথিবী কিন্তু তাদেরকে স্মরণ করে অনাদিকাল। সে থেকেই আমার মনের গহিনে রাজনীতি ও রাজনৈতিকদের প্রতি ভালবাসা ও ভাল লাগা। এখন অনেক সময় গড়িয়েছে। সময়ের সাথে সাথে মানুষের বোধ-বিবেকও নানাভাবে পরিবর্তন হয়েছে; ভাল কিছু হওয়ার পরিবর্তে মন্দের প্রতিযোগিতা চলছে তীব্র গতিতে। এখন রাজনীতির অংক বড়ই জটিল। অনেকেই লাভ-ক্ষতি কষে লাভের পাল্লা ভারি হলে নিজের দলে অন্যথায় রূপ-রং পরিবর্তন করে ভিন্ন দলে যোগদান করছেন। তবে ব্যক্তির ইচ্ছা বা স্বাধীনতায় দল পরিবর্তনের চেয়েও ক্ষমতাসীনরা জেল-জুলুম, লোভ লালসার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে নিজের দল ভারি করার করার এক রুগ্ন প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। এসব কা- কীর্তি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হয়, আমাদের দেশেও তা চলছে বহুগুণে।

প্রত্যেক মানুষেরই স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার, কথা বলার অধিকার আছে। মানুষের সেই অধিকার যখন কোন সংঘটিত গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রীয় শক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করে তখনই বিপত্তি দেখা দেয়, শুরু হয় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন। তখন রাজনীতি মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে জনগণের ওপর অকল্যাণ জেঁকে বসে। আদর্শের কথিত ধারকরা পথভ্রষ্ট হয়ে ভিন্ন আদর্শের ওপর জোর করে জেঁকে বসে। এতে মানুষ এমন আদর্শহীন রাজনীতি থেকে কোন সঠিক দীক্ষা গ্রহণ করতে পারে না। যে কারণে রাজনীতি ধীরে ধীরে আদর্শচ্যুত হয়ে দুর্বৃত্তদের হাতে চলে যাচ্ছে।

কারো ওপর কোন কিছু চাপিয়ে দেয়া মোটেও সমীচীন নয়। এখন রাজনীতি আদর্শচ্যুত হয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিতায় রূপ নিচ্ছে। যে কারণে রাজনৈতিকরা তাদের দল ভারি করতে নানা কায়দার আশ্রয় নিচ্ছেন। যে কোন কাজ বা কাজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এক ব্যক্তির কাজ ও চিন্তার চেয়ে সংখ্যাধিক্যের সিদ্ধান্ত শ্রেয় তা তারা দিব্যি ভুলতে বসেছেন। প্রকৃতপক্ষে শুধু রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে মত প্রকাশের অবাধ সুযোগ থাকলে হবে না বরং এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যে কোন নাগরিকের মতামত শাসকবর্গের নাগাল পর্যন্ত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তাই প্রয়োজন সুশাসন ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষা।

আমাদের দেশের রাজনীতি সাধারণত জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতার চেতনা, ধর্ম ও ব্যক্তি আদর্শ ভিত্তিক। প্রত্যেকেই যার যার চেতনা আদর্শের উপর নিজেরা অটল বলে দাবি করলেও বাস্তবে যারা যে রাজনীতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করছে তাদের অনেকেই নিজের দাবির উপর অটল থাকছে না। নিজেরা গণতন্ত্র ও সুশাসনের কথা বলছে অথচ দলীয় নেতৃত্ব বাছাই থেকে শুরু করে সবকিছুতেই অনিয়ম আর ক্ষমতার ঠেলাঠেলি লক্ষণীয়। তারা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি হাসিল করতে নানা অবয়ব ধারণ করছে। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিতর্কিতভাবে সমাসীন হওয়ার পর থেকে কথিত স্বাধীনতার বুলি আওড়ালেও বিরোধী মতের উপর জুলুম নির্যাতন চালিয়ে, ভয় ভীতি দেখিয়ে নিজের দল ভারি করার নিমিত্তে নানাভাবে চেষ্টা করছে। ক্ষমতায় অধিষ্টিত হতে জামায়াতের সাথে তারা জোট বেঁধেছিল। সময়ের পরিক্রমায় ক্ষমতা হারানোর ভয়ে এখন জামায়াত নিধন মিশনে কোমর বেঁধে নেমেছে। আবার স্বাধীনতার চেতনার দাবিদাররা জামায়াত ও বিএনপির বিরুদ্ধে অকথা কুকথা বললেও দল ভারি করতে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে তাদের দলে ভেড়াচ্ছে। যেমন :
খবরঃ-“চাঁপাইনবাবগঞ্জে দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিল জামায়াত ও বিএনপির পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী। এসব নেতাকর্মীর মধ্যে কারো কারো বিরুদ্ধে নাশকতার একাধিক মামলা রয়েছে। গতকাল শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে জামায়াত-বিএনপির এসব নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। তাদের বরণ করে নেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ।

সংসদ সদস্য ওদুদ সাংবাদিকদের বলেন, “তারা (বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মী) এখন ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান দিচ্ছে, এটা আমাদের কৃতিত্ব। আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে যদি তারা সংশোধন হয় তাহলে ক্ষতি কী?” (সূত্রঃ কালের কন্ঠ ৯/১০/১৬)।

উপরের খবরটি বেশ ক’টি পত্রিকা ফলাও করে ছাপিয়েছিল। আমাকে পরিচিত ক’জন ফোন করে বললেন ভাই জামায়াতের নেতা-কর্মীরা এখন আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন। তাদের কথায় ছিল বিস্ময়! তাদের মতে এটা কি করে সম্ভব যে, জামায়াতের নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে! অথচ আমার কাছে মনে হয়েছে এটি অতি স্বাভাবিক একটি ব্যাপার! কারণ আওয়ামী লীগ কি অমানুষিক নির্যাতন দেশের সর্বত্র চালাচ্ছে কেবল ভুক্তভুগী মাত্রই জানেন। যে কেউ নিজের দল ভাল না লাগলে ভিন্ন দলে যোগ দিতেই পারেন। কিন্তু দেশের যে বিরাজমান পরিস্থিতি তাতে শুধুমাত্র কেউ জানের ভয়ে বা বিশেষ কোন সুযোগ-সুবিধা লাভের উদ্দেশ্য ছাড়া আওয়ামী লীগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের দলে যোগদান করবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ আওয়ামী লীগ এখন বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি বলে পরিচিত এলাকাগুলোকে টার্গেট করে জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে, পুলিশী হয়রানিতে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা দিশেহারা। এমন কি শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থে গুম খুন চলছে বিশেষ চিহ্নিত এলাকাতে চিহ্নিত নেতা-কর্মীদের উপর । পত্রপত্রিকার প্রতিদিনকার খবরে এসব কিছু প্রকাশিত হয় না। পত্রিকাগুলো এখন সদা সরকারের জয়ধ্বনিতে মত্ত। নচেৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়! বিভিন্ন এলাকায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা কেমন আছে, তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করলে যে কেউ সহজে বুঝতে পারবে দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি কি!

এরপরেও বলব মানুষ ফেরেস্তা নয়। তাই যারা ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয় তাদের কারো কখনও পদস্খলন হবে না এটা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। কারণ আল্লাহর রাসুলের সাহাবীরাও কেউ কেউ ইসলাম ত্যাগ করে স্বধর্মে ফিরে গিয়ে মুরতাদ হয়েছিলেন। তারা স্বয়ং আল্লাহর রাসুলের কাছে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। রাসুলের (সঃ) ছোহবত পেয়েছেন। সুতরাং জামায়াত নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ চলমান পরিস্থিতিতে ভয়ে, জীবন বাঁচানোর তাগিদে, মাল-সম্পদ রক্ষার নিমিত্তে অথবা ইসলামী আদর্শ ভিন্ন আদর্শ গ্রহণ করে জামায়াত বা ইসলামী সংগঠন ছেড়ে গেলে এতে হা-হুতাশ করার কিছু বলে আমি মনে করি না। মানুষ ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয় জেনেবুঝে এবং নিজের প্রয়োজনে। ইসলামের ছায়াতলে নিজের জীবনকে সম্পৃক্ত করতে পারা বড় সৌভাগ্যের ব্যাপার। হযরত বেলাল ইসলামকে কৃতদাস হয়েও বুঝে ছিলেন। শত জুলুম নির্যাতনের পরেও ইসলাম বিরোধীরা তাকে ইসলাম থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। ইসলামী অন্দোলনের অসংখ্য কর্মীকে আমরা দেখেছি আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করতে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন তবু ইসলাম বিরোধীদের কাছে মাথা নোয়াননি।

চলমান আওয়ামী লীগের জুলুমতন্ত্রের এই সময়ে আওয়ামী লীগের কাউকে জোর করে জামায়াত তাদের দলে ভেরাতে পারবে বলে আওয়ামী লীগের জাতশত্রুও বিশ্বাস করবে না। এই অবস্থায়ও যদি জামায়াতে আওয়ামী লীগের কেউ যোগ দেয় এটাকে নেহায়েত জামায়াতের প্রতি ভালবাসা ও আওয়ামী লীগের প্রতি রাগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া অন্য কোন কারণ আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। যেমন একটি খবর : “বগুড়ায় অর্ধশতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান। বগুড়ায় আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুুস সালাম মানিক তার অর্ধশতাধিক কর্মী ও সমর্থক নিয়ে গত বুধবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগদান করেন। এরুলিয়া বাজারে ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সভায় সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে তারা আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে জামায়াতে যোগদানের ঘোষণা দেন। আবদুস সালাম মানিক জামায়াতে যোগদানের কারণ হিসেবে জানান, সরকারের দুর্নীতি, দুঃশাসনে বীতশ্রদ্ধ হয়েই যোগ দিয়েছেন। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি জামায়াত-শিবিরের ভয়ে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঠিক রাখার স্বার্থে যোগ দিয়েছেন ( সূত্রঃ দৈনিক মানবকন্ঠ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩)।

বর্তমানে জামায়াতের সাথে নানাভাবে প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি মানুষ সম্পৃক্ত। এই দলটির উপর অমানুষিক জুলুম-নির্যাতনের কারণে এই দলের প্রতি মানুষের সমবেদনা বেড়েছে বহুগুণে, গত উপজেলা নির্বাচন এর জলন্ত উদাহারণ।
জামায়াতের রাজনীতি বন্ধে আওয়ামী মহাজোট সরকার নানা কায়দায় চেষ্টা করছে। জামায়াত স্বনামে নির্বাচন করতে পারবে না বলে রকিব কমিশন জানিয়ে দিয়েছে। সারা দেশে এই বৃহৎ ইসলামী রাজনৈতিক দলটির প্রায় সকল কার্যালয়ে সরকার তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এই দলটির প্রায় সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ। হাজার হাজার নেতাকর্মী এখনো কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। লক্ষাধিক মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলায় লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী বাড়ি-ঘর ছাড়া। আওয়ামী লীগের চলতি মেয়াদে প্রশ্নবিদ্ধ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বেশ ক’জন শীর্ষ নেতৃবৃন্ধকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করেছে। আরো বেশ ক’জন জেলে বন্দী আছেন, যাদের বিচারকার্য চলমান।

আওয়ামী লীগ জামায়াতের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের ধুঁয়া তুললেও জামায়াত অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তাদের নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের একাংশ মনে করেন জামায়াতকে যতো দ্রুত সম্ভব নিষিদ্ধ করা দরকার। এতে জামায়াতের প্রচার প্রসার এক সময় থেমে যাবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বীন-ধর্ম কায়েমের পথ বাদ দিয়ে পাক্কা স্যাকুলার দেশে পরিণত হবে! বিএনপি জোট দুর্বল হবে আর জামায়াতের লক্ষ লক্ষ যুবক তরুণ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনে যোগ দিবে। এতে আওয়ামী লীগ আরো বেশি শক্তিশালী হবে এবং বিএনপির সাথে ভোটের রাজনীতিতে ভাল করবে। তাদের আরেকটি অংশ মনে করেন যে, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা ঠিক হবে না। জামায়াতকে বর্তমান সময়ের মতো এভাবেই কোণঠাসা করে রাখতে হবে। কারণ জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে এদের বড় অংশ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনে যোগ দেবে, এতে গণেষ উল্টে যেতে পারে। এছাড়া জামায়াত নিষিদ্ধ হলে এই দলের নেতা কর্মীরা কৌশলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে ডুকে যাবে, এতে সময়ের পরিক্রমায় জামায়াতের নীতি ও আদর্শ বিস্তৃত হতে পারে। তাছাড়াও তাদের ধারণা জামায়াত নিষিদ্ধ হলে তারা নতুন দল গঠন করবে এবং নিষিদ্ধের পর এই দলের একটি অংশ প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে মিলিটেন্ট হয়ে যেতে পারে, যার ফলাফল কারো জন্য কল্যাণকর হবে না।

তবে আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের ধারণা যাই হোক না কেন, আওয়ামী লীগ জামায়াতকে তাদের ক্ষমতা রক্ষা ও ক্ষমতায় যেতে “ট্রাম্পকার্ড” হিসেবে কাজে লাগাতে চেষ্টা করবে। তারা বহির্বিশ্বে জামায়াতকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে। এখনো তাদের সেই হীন প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এখন যদি নিরপেক্ষভাবে দেশের সিংহভাগ মানুষের গণভোট নেয়া হয় যে, দেশের কোন দলকে সন্ত্রাসী কর্মকা-ের কারণে নিষিদ্ধ করা দরকার? আমার ধারণা অধিকাংশ জনগণ কোন দলকে নিষিদ্ধের ব্যাপারে তাদের রায় প্রদান করবে তা সহজে অনুমেয়। কারণ আওয়ামী সরকারের আমলে যেভাবে দলীয় ও রাষ্ট্রীয় মদদে খুনা-খুনি ও বিরোধীমত দমনে জুলুম নির্যাতনের স্টীম রোলার চালানো হয়েছে তা অতীতের স্বৈরাচারীর রেকর্ডকেও ভঙ্গ করেছে। যা সভ্য সমাজে অকল্পনীয়।

আদর্শ মানুষের মনুষত্বের ভিত্তি। আদর্শকে পূঁজি করে মানুষ বেঁচে থাকে যুগের পর যুগ। সেটা যেই আদর্শই হোক না কেন। আদর্শহীন ব্যক্তি পরগাছার ন্যায়। আদর্শহীনরা আদর্শিক লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে গিয়ে জিঘাংসার পথ বেছে নেয়। আমাদের দেশে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত শীর্ষ নেতৃত্ব আজ চরম আদর্শহীনতায় ভুগছে। এরা নিজের আদর্শকে সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে ভিন্ন আদর্শবাদীদের নির্মূল করার ঘৃণ্য প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। ইতিহাস সাক্ষী, এমন আদর্শহীনরা জোর করে ভিন্নাদর্শীদের উপর নিজের আদর্শ চাপিয়ে দিলেও সময়ের ব্যবধানে সেই আদর্শ তাসের ঘরের মতো নিঃশেষ হয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে আদর্শবাদীরা সাময়িক পরাজিত হতে পারে তবে তারা কখনো তাদের আদর্শকে বিসর্জন দিতে পারে না। আদর্শবাদীদের কাছে আদর্শহীন ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার রাজনীতি পরিত্যাজ্য।
zabbarics@gmail.com