এক অনিবার্য লড়াই …

11. July 2012 Uncategorized 0

হযরত শাহজালাল, হযরত শাহপরাণ ও হযরত শাহমাখদুম (রহ:) এর পুণ্যভূমি হাজী শরীয়তুল্লাহ ও তিতুমীরের সংগ্রামী কর্মতৎপরতায় শানিত হয়েছে এতদঅঞ্চলের প্রতিটি জনপদ। কৃষক, শ্রমিক মজুরÑ সকলের প্রাণে প্রাণে দ্বীন ইসলামের আদর্শিক ধারণার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে উঠেছে শিরক-বিদাতের বিরুদ্ধে ইসলামের মজবুত মিনার। প্রতিটি মিনারের বিচ্ছুরিত আলোর বিকিরণে আলোক উদ্ভাসিত হয়ে মহানবীর জীবনাদর্শ ধারণ করে দিনাতিপাত করাই যেন এ জনপদের মানুষের জীবনবোধ, চিন্তা-চেতনা, তমুদ্দুনের অন্যতম অংশ। ইংরেজরা বিচ্ছুরিত আলোক বিকিরণে হতবিহ্বল হয়ে শাহ ওয়ালী উল্লাহ ও তার অনুসারীদের হত্যা করার মধ্য দিয়ে নিভিয়ে দিতে চেয়েছিল ইসলামের আলোর মশালকে। হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। বাসনা চরিতার্থ করেছিল। কিন্তু চিরতরে তার আদর্শকে খতম করা সম্ভব হয়নি। আরো ছড়িয়ে গেছে দিগি¦দিকে অগণিত জনপদে। একইভাবে ১৮৫৮ সালে বাগদাদ ধ্বংস করে হালাকুখান মুসলমানদের রক্তসাগরে ভাসিয়ে দিয়ে তাদেরকে কবরস্ত করেছে। কবরস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে কালজয়ী আদর্শকে।

কালের সাক্ষী গ্রানাডা ট্র্যাজেডি। প্রতারণা করে মুসলমানদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে বিশ্বব্যাপী তাদের হৃদয়ে লেলিহান শিখা জ্বালিয়ে দিয়েছে।
যে আগুন নিভবার নয়। ৯/১১ চক্রান্তের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে সারাবিশ্বে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হিসেবে প্রমাণিত করার হীন প্রচেষ্টায় মিডিয়া শক্তি মরিয়া হয়ে উঠেছে ইহুদি, খ্রিষ্টান ও জায়নবাদীদের প্রত্যক্ষ মদদে। জাতিসংঘের ছত্রছায়ায় আফগানিস্তানে তালেবান দমনের নামে নির্বিচারে গণহত্যা করেছে আমেরিকা-ব্রিটেন। স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের নামে ইরাক এখন কারবালা প্রান্তর। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে লাদেককে আশ্রয়দাতা হিসেবে চিহ্নিত করে সম্ভবত চূড়ান্ত সামরিক আগ্রাসী অভিযান ছুড়ে দেয়া আমেরিকার জন্য সময়ের ব্যাপার!

পার্শ্ববর্তী দেশের লোলুপ দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের প্রতি। সময়ের সদ্ব্যবহার করার জন্য যেন প্রস্তুত! এ দেশের মানুষের ঈমানী চেতনাকে উজাড় করে দিয়ে জাহেলিয়াতের নীল সাগরে ভাসিয়ে দেয়াই যেন ভিশন ২০২১। কিন্তু আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে রক্ষা করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এভাবেÑ ‘‘তারা চায় মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে কিন্তু আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে তার দ্বীনের প্রদীপকে প্রজ্বলিত করবেন তা কাফেরদের কাছে যতই অপছন্দনীয় হোক না কেন ।” (সূরা সফ)

আমরা বাংলাদেশে বসবাস করি। এখানে ফজরের আজানের সুমধুর কণ্ঠধ্বনি শোনে মানুষ ঘুম থেকে জেগে ওঠে। নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াত শেষ করে অধিকাংশ মানুষ তাদের কর্মকাণ্ডে যোগ দেয়। এখানকার বিশ্বাস গড়ে উঠেছে ইসলামের সুমহান সৌধের ওপর ভিত্তি করে। কারণ প্রতিটি জনপদ আবাদ করেছিলেন সুফি, সাধক ও হক্কানি পীর-মুজাহিদরা।

কাল থেকে কালান্তরে ছোট ছেলেমেয়েরা মক্তবে গিয়ে কুরআনের সবক নেয়। সমাজ থেকে শিরক-বিদাত দূর করার সুমহান বাণীর শিক্ষা গ্রহণ করে তারা বড় হয় তাওহিদের ভিত্তিতে।

প্রগতি ও শিক্ষার নাম করে মুসলমান নতুন জেনারেশনকে কুরআনশূন্য করার এক অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। প্রত্যুষে কুরআন শিক্ষার বিপরীতে কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে শহরে, গ্রামে, বন্দরে প্রতিটি জনপদে। এখন প্রায় মক্তবই শূন্য। কুরআনবিমুখ করা হচ্ছে নবপ্রজন্মকে।

এতদঅঞ্চলের তাওহিদপ্রিয় সহজ সরল মানুষগুলোকে তিলে তিলে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাদের বিশ্বাস থেকে দূরে সরানোর পাঁয়তারা চলছে। এখানে চলছে হক ও বাতিলের নিঃশব্দ ক্রুসেড।

কুরআনের ঘোষণাও তাইÑ ‘যারা ঈমানদার তারা সংগ্রাম করে আল্লাহর পথে, আরা যারা কাফির তারা সংগ্রাম করে তাগুতের পথে।” ঈমানদার এবং বাতিলের যুদ্ধ চলবে অনন্তকাল অবধি। মাদরাসাগুলোকে জঙ্গির উৎপাদন কেন্দ্র বলে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অনীহা ও বিষবাষ্প ছড়ানোর মাধ্যমে ইসলামকে করতে চায় প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ এই ইসলাম হচ্ছে আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত জীবনব্যবস্থা।

এতদঞ্চলের মানুষের হৃদয়পট হতে ইসলামের সঠিক পরিচয় ও নিশানাকে মুছে ফেলার জন্য বারবার শিক্ষা কমিশন গঠনের মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষার যৎ সামান্য ব্যবস্থা ছিল মাদরাসা ও সাধারণ শিক্ষার সিলেবাস কাট-ছাঁটে অবস্থা ত্রাহি ত্রাহি। প্রগতির নামে মাঝে মাঝে আমাদের দেশে নতুন কিছু আইডিয়ার আমদানি হয়। যে সকল আইডিয়া আমাদের চিন্তা-চেতনার সাথে চরম সাংঘর্ষিক। ছাত্ররা তাদের আসল পরিচয় ভুলতে শুরু করেছে। তাদের প্রতি স্নেহ ভালোবাসার পরিবর্তে জনগণের ঘৃণা জন্মেছে অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মানে সন্ত্রাসী (!) এটাই যেন বর্তমান চিত্র।

সরকারদলীয় মদদপুষ্ট ছাত্র সংগঠনের তাণ্ডবে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ আজ বিপন্ন। বহু গ্রুপে দ্বিধা-বিভক্ত এ সংগঠনটি টেন্ডারবাজি, ভর্তিবাণিজ্য, সাধারণ ছাত্রদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় ও ছাত্রীদের শ্লীলতাহানিই যেন তাদের দলীয় মিশন। নিজেদের অন্তঃকোন্দলে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকে মাসের পর মাস। এদিকে সরকারে কোন ভ্রƒক্ষেপ নেই। যতসব ব্যস্ততা বিরোধী ছাত্র সংঠনগুলোকে অকারণে শায়েস্তা করতে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফারুক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় নিজেদের অন্তঃকোন্দলে। এই হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে ক্যাম্পাসে প্রতিনিধিত্বকারী ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ক্যাম্পাস ছাড়াসহ দেশব্যাপী তাদের অগ্রযাত্রাকে বন্ধ করে দেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে শুরু হয় চিরুনি অভিযানের নামে দমন-নিপীড়ন, মামলা আর কারারুদ্ধের স্টিম রুলার। তথাকথিত চিরুনি অভিযানে লাখো লাখো মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ছাত্র মেস ও বাসা ছাড়তে বাধ্য হয়।

তখন প্রায় ছাত্রশূন্য হয়ে পড়ে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। চরম উৎকণ্ঠায় কাটাতে থাকেন অভিভাবক ও ছাত্রসমাজ। এমন নির্যাতনের জবাব কোথায় মিলবে? থানায় মামলা করতে গেলে অথবা প্রতিবাদ করতে গেলে হিতে বিপরীত হয় ভেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে পছন্দ করেন ছাত্র-অভিভাবক।
তসলিমা নাসরিন নারী স্বাধীনতার নাম করে মহিলাদের সম্ভ্রমহানিতার এক সরস প্রজেক্ট নিয়ে এসেছিলেন। তৌহিদি জনতার প্রতিরোধে দেশ ত্যাগে তিনি বাধ্য হয়েছেন।

দাউদ হায়দার, আহমেদ শরীফ, এ কে আজাদ চৌধুরী, শামসুর রাহমানের মত জ্ঞানপাপী ব্যক্তিদের কাছে আজানের সুর ও কুরআন তিলাওয়াত অসহ্য হয়। জাতি তাদেরকেও আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছে।

ইরানের সালমান রুশদী রাসূল (সা)-এর সম্মানে আঘাত হানতে চেয়েছিল। পৃথিবীতে তার অবস্থান কোথায়? এর পরও এসব বুদ্ধিজীবী এত দুঃসাহস পায় কোথা হতে?

আমাদের দেশে সাধারণ মানুষগুলোকে ধোঁকায় ফেলে তসবিহ হাতে ও মাথায় ঘোমটা দিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে কোন আইন পাস করবে না বলে সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কায়েমের মধ্য দিয়ে হিন্দু প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে খুশি করে হিন্দুয়ানি ফর্মুলা চালু করতে সরকার মরিয়া।
তবে সপ্তম সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ, আল্লাহর ওপর বিশ্বাস, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজহাতে ইসলাম জবাই করে কার স্বার্থ উদ্ধার করতে চান?

আবার কোন মায়ায় সংবিধানে সদ্য বাতিলকৃত চিন্তা-চেতনা বিসমিল্লাহ, আল্লাহর ওপর বিশ্বাস, ধর্মভিত্তিক দল থাকবে বলে ঘোষণা করেন? মতলব কী জাতি আজ সুস্পষ্টভাবে জানতে চায়। ইসলামকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসে ইসলামের বিরুদ্ধে আইন পাস করে। আবার ইসলামের কিছু শব্দ ব্যবহার করে ইসলামের জিম্মাদার উপস্থাপন করে জাতিকে আগামীতে পুনরায় বিভ্রান্ত করার এক গভীর ষড়যন্ত্র!

নারীদের সর্বক্ষেত্রে অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে জাতিসংঘের প্রণীত কুরআনবিরোধী CEDAW নীতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে কুরআনের সাথে এক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১ এর ধারা ১, ১৬.১, ১৬.১২, ২৩.৫ ধারা সমূহে সমঅধিকার, সমান অধিকার ইত্যাদি বলে কুরআনের বিধান পরিবর্তনের দুঃসাহস দেখানো হয়েছে। আল্লাহ তায়ালার বাণী, ‘‘ন্যায় সঙ্গতভাবে নারীদের আছে পুরুষের ওপর তেমন অধিকার, যেমনি আছে তাদের পুরুষদের অধিকার। তবে নারীদের ওপর পুরুষদের মর্যাদা আছে এক ধাপ বেশি। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী মহা প্রজ্ঞাময়। (সূরা বাকারা : ২৮৮) ‘‘একজন পুরুষ একজন নারীর দ্বিগুণ সম্পদ পাবে।” (সূরা নিসা : ১১ ও ১৭৬ আয়াত)। এ ছাড়া আলোচ্য ধারাসমূহ পবিত্র কুরআন মজিদের সূরা নিসা, আয়াত ৪, ২৩, ২৫, ও ৩৪, সূরা তালাক ১, ৪, ৬ ও ৭ সূরা বাকারা ২২৮ ও ২৮২, সূরা আহজাব আয়াত ৩৩ এবং ৪:১, ২:১৮৭ ও ২২৩, ২২:৫, ২৩:১২ ও ১৪, ১৩:২৬, ১৭:৩০, ২৮:৮২, ২৯:৬২, ৩০:২৭, ৩৪:৩৬, ৩৯:৫২, ৪২:১৩ আয়াতসমূহের সাথে সুস্পষ্ট সাংঘর্ষিক। ইসলাম নারীকে সর্বোচ্চ অধিকার দিয়ে মাতা, ভগ্নি ও কন্যা হিসেবে সম্মানিত করেছে। সম অধিকার নয় বরং তাদের ন্যায্য অধিকার দিয়ে সামগ্রিকভাবে নারীদেরকে হেফাজত করা হয়েছে।

নারীনীতিমালা ২০১১ এর ধারা ১৬.৮, ১৭.১ অনুচ্ছেদে আরো বলা হয়েছে যে, ‘বিদ্যমান সকল বৈষম্যমূলক আইন বিলোপ করার কথা বলা হয়েছে। এ প্রস্তাব কুরআন ও সুন্নাহের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ছাড়াও নারীনীতিমালা ২০০১ এর ধারা ৪, ১৭, ২, ১৫, ১৬.১৫, ১৮.৪, ২১.১, ২৪.৪ ধারাগুলোতে তথাকথিত সমতা, লিঙ্গবৈষম্যহীনতা ও সমান অধিকারের নামে তাদের মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করে অধিকারের ধুয়া তুলে গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে দিয়ে পরিবার প্রথাকে ধ্বংস করে ইসলামের সুমহান আদর্শ হতে জাতিকে বিচ্যুত করতে চায়।

Convention of the Elimination of all forms of Discrimination Against Women (CEDAW) শীর্ষক আন্তর্জাতিক ধারা মুসলিম উম্মাহর বিশ্বাস, চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতিবিরোধী।

ঈঊউঅড-এর ২, ৩, ৯, ১৩, ১৬ নং ধারাসহ আন্তর্জাতিক নীতিসমূহ সুস্পষ্টভাবে কুরআন, সুন্নাহ ও ইসলামবিরোধী যেমন সম্পত্তিতে নারী- পুরুষের সমঅধিকার, কুমারী গর্ভপাত বৈধ করা ইত্যাদি।

অতএব ঈঊউঅড বাস্তবায়ন অর্থ হলো কুরআনের বিরদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। তাই দেখা যায় মুসলিম দেশগুলো এবং অনেক অমুসলিম দেশও ঈঊউঅড সনদ তাদের সামাজিক মূল্যবোধের সাথে অসঙ্গতি বিধায় উক্ত ধারাসমূহে আপত্তি জানিয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেন, আল্লাহ ও তার রাসূল (সা) কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলে সেই বিষয়ে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা কোন মুমিন নারীর ভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থাকবে না। কেহ আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ অমান্য করলে যে তো স্পষ্টতই পথভ্রষ্ট হবে। (সূরা আহজাব : ৩৬)

বাংলাদেশের বিগত সরকারসমূহ এই সনদের আপত্তিকর ধারাসমূহের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট আপত্তি যোগসহ তাতে স্বাক্ষর করলেও ৯২% মুসলমানের এ দেশে কেউ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তাহলে আমাদের সরকার কেন এই নীতি বাস্তবায়ন করতে পাগলপ্রায় জাতি আজ সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চায়। বিবেকবান লোকদের জানতে বাকি নেই জাতিসংঘ আজ পশ্চিমাদের মুসলিম নিধনশালা।

নেশার আসরে মত্ত হয়ে যে কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে যে কোন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে তছনছ করে দেশের পর দেশকে পঙ্গু করে দিতে তারা ভ্রƒক্ষেপ করেনি।
যেমন ইতিহাস বলে যুক্তরাষ্ট্রই এক সময় লাদেনকে তাদের প্রয়োজনে কাজে লাগিয়েছিল। পরবর্তীতে ওসামা বিন লাদেন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় সে-ই বিশ্বের সবচাইতে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হিসেবে বিশ্বমিডিয়াতে প্রচারিত হলো। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কুরআনের বিরুদ্ধে আইন করে কার স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত? ক্ষমতা পাকাপুক্ত করবেন?

অথচ প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের কুরআনের বিজ্ঞ আলেমদেরকে কুরআনের অপব্যাখ্যা প্রদান করছেন বলে সভা-সমিতিতে ব্যাখ্যা করছেন। জনগণের প্রশ্নÑ তাহলে আলেমরা কুরআন বেশি বুঝেন না প্রধানমন্ত্রী কুরআন বেশি বুঝেন? জাতিকে প্রতারিত করার জন্য তিনি কিছু সংখ্যক লেবাসধারী আলেম নামক জ্ঞানপাপীদের নিয়ে নারীনীতির ব্যাখ্যা জাতির সামনে উত্থাপন করেন। কথিত আলেমরা সরকারের চাটুকার হিসেবে কুরআনকে অর্থের বিনিময়ে বিকিয়ে দিচ্ছেন। এসব আলেমের ভায়াবহ পরিণতি কী হতে পারে? আল্লাহ বলেন, “তোমরা সামান্য অর্থের বিনিময়ে কুরআনকে বিক্রি করে দিও না।” (সূরা আল বাকারা : ৪১) অন্যত্র আরো বলা হয়েছে, “আর তোমরা মিথ্যার আবরণে সত্যকে সন্দেহযুক্ত করে তোল না এবং জেনে বুঝে সত্যকে লুকানোর চেষ্টা করো না।” (সূরা বাকারা)
আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ইসলামকে পালন নিষিদ্ধ করার পাঁয়তারা চলছে। আদালতের নোটিশে নারীদের পর্দা পালনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে সরকার আল্লাহ নির্দেশিত ফরজকে বৃদ্ধাঙুলি প্রদর্শন করেছে। এতদঅঞ্চলের হাজার বছর ধরে লালিত নারীদের সম্মান ও মর্যাদার জায়গায় আঘাতে পুরো জাতি স্তম্ভিত।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ড্রেস কোডের নামে পর্দামুখী ছাত্রীদের পর্দাহীন করে নারী সমাজকে ধর্মহীন করার সুদূরপ্রসারী টার্গেট!

এ আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে এ দেশের প্রতিটি ধর্মপ্রাণ হৃদয়। সতীত্ব হরণের নয়া চক্রান্তে আবদ্ধ করার সুগভীর ষড়যন্ত্র। ইসলামের পক্ষে এবং সরকারের ইসলামবিরোধী, দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বললেই দেশের শত্রু? অপটিমেশটিক! ইত্যাদি নামে চিহ্নিত করা হয়।

সরকার জাতির মধ্যে বড় ধরনের বিভেদের দেয়াল বুনতে চায়। গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের জাতিসত্তাকে তছনছ করে ফেলাই যেন চূড়ান্ত লক্ষ্য। যুদ্ধাপরাধ ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। অথচ যাদেরকে যুদ্ধাপরাধী বলছে তাদেরকে নিয়েইতো তারা কোয়ালিশন করে নির্বাচন, আন্দোলন করেছিল। এতদিন পর হঠাৎ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা! সরকারের টার্গেট ব্যক্তি নয়, দল ও আদর্শকে খতম করা।

তাদের বিরুদ্ধে তথাকথিত কিছু অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু সকল অভিযোগের কোন ভিত্তি সরকার প্রমাণ করতে পারেনি। আসলে তাদের অপরাধ কুরআনের ভাষায়, “তাদের অপরাধ তো একটিই তারা মহামহিমান্বিত রবের প্রতি ঈমান এনেছে।”

সরকার নিজের মতাদর্শের লোকদের নিয়ে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে, যে ট্রাইব্যুনাল সকলের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ বিশেষজ্ঞ স্টিফেন জে রেপ বলেছেন, বর্তমান ট্রাইব্যুনাল ও যুদ্ধাপরাধ আন্তর্জাতিক মানের নয় এবং এই আইন সংশোধন করতে হবে। সেফ হোম নামক নির্যাতনের কারাগারে নিয়ে সরকার বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে বল প্রয়োগ করে কী তথ্য আদায় করতে চায়, দেশের মানুষ তা জানতে চায়। তবে জনগণ মনে করে, সর্ব প্রকার নির্যাতনের মাঝেও সত্যের ওপর তাদের নেতৃবৃন্দ প্রতিষ্ঠিত থাকবেন। সত্যের বিজয় হবেই নিশ্চিত।
জনগণ মনে করে, সরকার যদি যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে চায় তাহলে সর্বপ্রথম তার দলের ভেতর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়ও যুদ্ধাপরাধীদের তালিকাভুক্ত রয়েছেন। সরকার ২৭ মাসের ক্ষমতাকালে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রায় ২৫০ জনকে খুন করেছে, সর্বপ্রথম এর বিচার হওয়া জরুরি।

তাজা খুন ও পর্যাপ্ত সাক্ষী যেখানে বিদ্যমান, ২৮ অক্টোবর ২০০৬ সালে পল্টন এলাকায় অত্যন্ত পৈশাচিক কায়দায় লাঠি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে জামায়াত-শিবিরের ৮ জন নেতাকর্মীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে। সে খুনের তাজা ভিডিও ফুটেজও জাতির কাছে সংরক্ষিত আছে।
দেশের মানুষ বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছে সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে কার অধিকার সুসংহত করতে চায়! নির্বিচারে আর কত বিডিআর হত্যা করবে? ধর্ষণ, নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করবে ফেনালীর মত কত নারী? বাংলাদেশে সংঘটিত পিলখানা ট্র্যাজেডি ও দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার একটি পাঁয়তারা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাহলে আমরা কী স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিক নই? তাহলে কি এ দেশ পার্শ্ববর্তী দেশের করদরাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে? কিছু গতানুগতিক বক্তব্য ছাড়া সরকার এ সবের কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতা দমনে সরকার ব্যর্থ। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আমদানি করা কাপড় এসে বাজার সয়লাভ। তাহলে কি সরকারের এ ক্ষেত্রে হাত আছে? শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির মাধ্যমে দেশের প্রায় ৪০ লক্ষ বিনিয়োগকারী নিঃস্ব। জড়িত হোতাদের নাম প্রকাশ ও শাস্তি বিধানে কি থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে?
গণতন্ত্রের লেবাসধারী স্বৈরশাসনের অক্টোপাসে স্বাধীন মানুষগুলোকে জিম্মি করে রেখেছে।

সরকারদলীয় লোকদের জন্যই যেন এ দেশটি শত্রুমুক্ত হয়েছিল ১৯৭১ সালে। বাম-রাম-ইসলামবিরোধীরা দেশের যে কোন স্থানে মিটিং মিছিল করতে পারে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বিরোধী দল বা ইসলামপ্রিয় জনগণের মিটিং মিছিল ঘোষিত হলেই ১৪৪ ধারা জারি হয়ে যায়।
জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রশাসনকে কুরআনের মিছিলে লেলিয়ে দেয়া এ কেমন ন্যক্কারজনক?

ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ ইসলামের মৌলিক কিছু বিষয়ে কুরআনের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত না নেয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানায়। ইফা ডিজি শামীমের কুকর্মের কারণে পদত্যাগে বাধ্য করতে সোচ্চার হয়। সরকার একমত হলে ওলামা মাশায়েখ পরিষদ হরতাল প্রত্যাহার করে। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারের প্রতিনিধি এইচ টি ইমাম এ ধরনের কোন প্রতিশ্রুতি দেননি বলে উল্লেখ করেন! আলেম সমাজের সাথে প্রতারণা?

সত্য কথা বললেই যেন সরকারের ক্ষমতার মসনদ কেঁপে ওঠে। জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পালনের বিপরীতে জেল-জুলুম হুলিয়া দিয়ে বিরোধী দলের টুঁটি বন্ধ করে রাখাই যেন সরকারের একমাত্র দায়িত্ব।

ভারতীয় শিল্পীদের এ দেশের আগমনের অবাধ লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। আমদানিকৃত শিল্পীরা অর্ধনগ্ন বসনে অপসংস্কৃতির উল্লাস ছড়িয়ে দিতে আর্মি স্টেডিয়ামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক জমকালো অনুষ্ঠানÑ উলঙ্গ শাহরুখ কনসার্ট! অথচ সারা দেশে কুরআনের মাহফিলগুলোর ওপর ১৪৪ ধারা জারি করছে আওয়ামী লীগ ও তার সরর্কা। সরকারের বক্তব্য হলোÑ কুরআনের মাহফিল দাঙ্গা ছড়াতে পারে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে!

শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বব্যাপী ইসলাম নিধন মিশন শুরু হয়েছে। সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ও ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম যেন সময়ের অনিবার্য দাবি। আর শতকরা ৯০ জন মুসলমানের বাংলাদেশে এ আন্দোলন যেন সবচেয়ে জরুরি। তাই আজ বাংলাদেশের ঈমানদার প্রতিটি মানুষ শেখ হাসিনার কাছে জানতে চায়Ñ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শুধু কি আওয়ামী লীগ যোগ দিয়েছিল? আর এই স্বাধীনতা অর্জন কি ইসলামের বিরুদ্ধে? খোদ মরহুম শেখ মুজিব ইসলামের বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। আপনাকেও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের কথা পরিহার করে সত্যিকারার্থে যারা দেশের কথা, জনগণের কথা বলেন তাদের পরামর্শ নিয়ে একযোগে কাজ করে এ দেশের হতদরিদ্র মানুষগুলোর দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করার চেষ্টা করুন। ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান বন্ধ করুন। ঈমানদাররা মাঠে নামলে আপনাকে কেউ ক্ষমতায় রাখতে পারবে না।

আজ দ্বীন থাকবে কি থাকবে না, গণতন্ত্র থাকবে কি থাকবে না, স্বাধীনতা থাকবে কি থাকবে না?Ñ দ্বীনি শিক্ষা থাকবে কি থাকবে নাÑ এ সকল প্রশ্নের প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়ে বলতে হয়Ñ আর সময় নেই, ঈমানদারদের হারাবার আর কিছুই নেই, ঈমান না থাকলে তার হারাবার আর কি-ই বা থাকে?

কুরআনের মর্যাদাকে যারা পদদলিত করে, দেশের সার্বভৌমত্ব যারা বিকিয়ে দিতে চায়, যারা নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না তাদের সাথে কিসের আপস?

আসুন, কুরআনের মর্যাদা রক্ষার অনিবার্য লড়াইয়ে শামিল হয়ে বাতিলদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলি এক প্রচণ্ড দ্রোহ।


Leave a Reply