গণহত্যায় অভিযুক্ত আওয়ামীলীগের বিলবোর্ড প্রচারণায় শেষ রক্ষা হবে?

07. August 2013 Uncategorized 0

আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর থেকেই তাদের প্রতিদ্বন্দী হিসেবে বিরোধী শিবিরকে ঘায়েল করার আগ্রাসী পরিকল্পনা নিয়ে, চিরতরে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রয়াসে মাঠে নামে। এতে দেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জনগণণের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুন্ন হয় মারাত্মকভাবে। হিটলারী কায়দায় চলতে থাকে দেশের শাসন ব্যবস্থা। বিরোধীমত দমন, খুন-গুম ও গ্রেফতারের পর নির্মম নির্যাতন, বিনা দোষে লক্ষ-লক্ষ মামলা-মোকাদ্দমা, সরকারী ছত্রছায়ায় সরকারী দলের সমর্থকদের বিরোধীদের উপর হামলা, নির্যাতন যে কোন যুগের নির্মমতাকে হার মানায়। বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সহ দেশের সকল গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠানে নির্লজ্জ দলীয়করণে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের সিংহভাগ নাগরিক। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে সরকারের নানা মুখি ব্যর্থতা ও আইন-শৃংখলার চরম অবনতির সরব সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো । এমন অবস্থা চলতে থাকলে দেশে ভয়ঙ্কর অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা করেন । সরকার এরপরও সকল দলমতকে উপেক্ষা করে এক অজানা শক্তির খুঁটির জোরে জনগনের উপর দুর্বার গতিতে বাকশাল পদপৃষ্ট করে চলছে। যেখানে মানবতা গুমড়ে মরে।

সামনে নির্বাচন। সরকারের শেষ মুহুর্তে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চলছে নানা পরিকল্পনা । পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ঢাকার সকল বিলবোর্ড এ সরকারের নানা উন্নয়নের কথা তুলে ধরা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা, কূটনৈতিক অর্জন, সামাজিক নিরাপত্তা, দারিদ্র বিমোচন, যুগান্তকারী পরিবর্তন, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিক্ষিত সমাজ, উন্নত জাতি, সবার জন্য শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতি, ডিজিটাল বাংলাদেশ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি শিরোনাম বিলবোর্ডগুলোতে । যদিও বা কোন বিলবোর্ডে কারা এ প্রচার করছে তার উল্লেখ নেই, প্রচারণা করছে কি আওয়ামীলীগ না সরকার?

Bilboard 2

আর এ অর্থের, যা প্রায় ১০০ কোটি টাকার সমান, সে টাকার যোগান কি আওয়ামীলীগ দিয়েছে? না সরকারী কোষাগার থেকে? এর কোন সদুত্তর দিতে পারেনি আওয়ামী কেন্দ্রীয় নেতারা। এসব বিলবোর্ড দেখভাল করেন সিটি কর্পোরেশান, এর করর্মকতারাও কোন জবাব দিতে পারলেন না কি ভাবে এসব বিলবোর্ড অন্য সকল প্রতিষ্ঠানের চুক্তির মেয়াদ সম্পূর্ন না হবার আগেই হাসিনা সরকারের এসব সফল প্রচারণার সাইনগুলো উঠল? তাহলে কি জয়ের তত্তাবধানে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে আওয়ামীলীগের চিরাচরিত নিয়ম অনুসারে গায়ের জোরে অন্য বিজ্ঞাপনের উপর শেখ হাসিনার বিজ্ঞাপন লাগাল?

অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছেন তাদের সাথে কোন আলাপ আলোচনা ছাড়াই তাদের বিজ্ঞাপনের উপর প্রধানমন্ত্রী ও তার পিতার ছবিসহ সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

ঈদের আগে বাজারে তাদের নতুন পণ্যের প্রচারণা করতেই তারা বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বলেও অনেকে অভিযোগ করেন। বিএনপি নেতা ড. মঈন খান বলেন বিলবোর্ডের সফলতার প্রচারনার সাথে উন্নয়ন বাস্তবতার কোন মিল নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সকল দলের সমান সুযোগ দেয়া দরকার। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ বলেন বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতের অপপ্রচারের কারণে তারা সিটি কর্পোরেশন গুলোতে হেরেছেন, তাই তারা সরকারের উন্নয়ন সফলতাগুলো তুলে ধরার অংশ হিসেবেই এসব করছেন এবং আরো বহুমুখী প্রচারণার পরিকল্পনা আছে বলে তিনি জানান। তার কথায় শয়তানও মুচকি হাসে! মিথ্যুক, সরকারের পক্ষে নিউজ করার জন্য একদিকে সকল মিডিয়াকে বাধ্য করা হচ্ছে এবং বিরোধী দলমতের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট নিউজ করার জন্য রীতিমত তথ্য মন্ত্রনালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে চাপ অব্যহত রেখেছে।

Bilboard 1

আ’লীগের প্রকাশনা সম্পাদকের কাছে আমার প্রশ্ন। এত কিছুর পর ও বিরোধী দল আপনাদের বিরুদ্ধে এত অপপ্রচার চালায় কি ভাবে? তাহলে বুঝে নিন জনগনের জন্য কত উন্নয়ন আপনারা করেছেন! বিটিভি একতরফা ভাবে মিথ্যাচার করে সরকারের গুনগানেই ২৪ ঘন্টা ব্যস্ত। এসব কারণে এখন কোন মিডিয়ার উপরই জনগনের আস্থা নেই। তাই সত্য গোপন করে অসত্য প্রচারের কারনে এখন অনেক সচেতন নাগরিক নিউজ দেখা ও পড়া ছেড়ে দিয়েছেন। এসব করে কি শেষ রক্ষা হবে?

বরং এতে আওমীলীগের জন্য হিতে বিপরীত হবে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন । অনেকে একে কাটা ঘাঁয়ে নুন ছিটানোর মতো বলে মন্তব্য করেছেন। যারা আওয়ামী গণহত্যা ও নির্যাতনের শিকার তারা কোমড় বেঁধে মাঠে নামবে যাতে আওয়ামী জোট কোন ভাবেই ক্ষমতায় আসতে না পারে অপর দিকে আওয়ামীগ নাস্তিক্যবাদীদের আশ্রয়-পশ্রয় দেয়ার কারণে মাঠে নামবে ইসলামপ্রিয় তৌহিদি জনতা । যার কারণে কোনো ভাবে আ’ লীগ সরকারের এসব প্রচারণা ধোপে টিকবেনা বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

পত্রিকা সূত্রে জানা গেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় তার মাকে পুনরায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার জন্য বিশেষ ডিজিটাল পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন, ইতোমধ্যে তিনি আমেরিকান এক এক্সপার্ট প্রফেসরকে সাথে নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন। তার পরিকল্পনা প্রচার কেন্দ্রিক। এতে আওয়ামীলীগ ও সরকারের বহুমুখী সফলতা তুলে ধরবেন, ১৮ দলের কর্মসূচী কেন্দ্রীক নাশকতা, জামাতকে স্বাধীনতাবিরোধী বলে চিত্রিত ও মৌলবাদী দল হিসেবে প্রচার করা । জামায়াতে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলামকে নারী বিরোধী ও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহিৃত করা এবং বিগত জোট সরকারের ব্যর্থতা গুলো তুলে ধরা।সম্প্রতি একের পর এক সকল সিটি কর্পোরেশানে আওয়ামী প্রার্থী গো-হারা হারার পর মূলতঃ আওয়ামীলীগ ও প্রধানমন্ত্রী যেভাবে তেলের সাগরে ভাসছিলেন সেখানে কিছুটা শ্লথ গতি এসেছে ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার সহযোদ্ধাদের সবিনয়ে বলতে চাই- আপনারা পরগাছা দল গুলো কর্তৃক নতুন ভাবে তৈল মর্দন হয়ে যে ডিজিটাল প্রচারণায় শুরু করেছেন তা আপনাদের জন্য হিতে বিপরীত হবে । এসব প্রচারণা দিয়ে আপনাদের শেষ রক্ষা হবে বলে মনে হয়না । কারণ যে কোন দল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকলে সরকারী দায়িত্ব হিসেবে অর্থ বছরের পরিকল্পনা অনুয়ায়ী উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যহত থাকে। এসব উন্নয়ন কাজ ছিল আপনাদের দায়িত্বের অংশ । তবে ব্যক্তিবর্গের খায়েস মেটাতে গিয়ে এসব উন্নয়ন হয়েছে বারবার বাধাগ্রস্থ। উন্নয়ন পরিকল্পনার আসল বিষয় গুলো দুর্নিতির স্রোতের তোড়ে গেছে স্বপ্নের অতীতে। কোথায় পদ্মা গেল পদ্মা সেতু? কোথায় গেল শেয়ার বাজারের হাজার হাজার কোটি টাকা? কোথায় ঘরে ঘরে চাকুরী, কেজি ১০ টাকায় চাল আর কোথায় বিনামূল্যে সার? কোথায় গেল কুইক রেন্টাল প্রকল্প?

জনরোষ ঠেকাতে হাত মিলালেন পরগাছাদের সাথে। যাদের অস্তিত্ব পুলিশি পাহারায় শাহাবাগ আর মিডিয়া গুলোতে দেখা গেলে ও দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে মাইক্রোস্কোপ যন্ত্র দিয়ে খুঁজে পাওয়া এদের মুশকিল। যারা দেশের ৯০% মুসলমানের চিন্তা-চেতনার সাথে সাংঘষিক অপতৎপরতায় লিপ্ত। ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে ধর্মপালনকারীদের চেতনায় সাংঘাতিক ভাবে আঘাত করে বারবার।

আল্লাহ ও রাসুল (স) এর পক্ষে অবস্থান নেয়ায় ইসলামী রাজনীতি বন্ধ ও ইসলামী নেতৃত্ব খতম করে ইসলামের অপব্যাখ্যা দিতে এক দল মাজার পুঁজারী-ধর্ম ব্যবসায়ীদের আলেম রুপে মিডিয়া কভারেজ দিয়ে প্রকৃত দ্বীন ও আলেমদের ব্যাপারে সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বসত রায়ে আলেম-ওলামাদের মৃত্যুদন্ডাদেশ ও কারাদন্ডের প্রতিবাদে ইসলাম প্রিয় জনগণ ফুঁসে উঠে প্রতিবাদ করে । সরকারের ন্যাক্কারজনক নির্দেশে শত শত মানুষকে পাখির মত গুলি করে হত্যা করল পুলিশ প্রশাসন! যা বাংলাদেশ ইতোপূর্বে কেউ দেখেনি। ৫ মে শাপলা চত্বরের গণহত্যা দেশে নতুন বিভৎস এক ইতিহাস রচিত হল। এক রাতে ১ লক্ষ ৫০ হাজার গুলি খরচ করে লাইট পোষ্ট বন্ধ করে, সরকারের যথার্থ সমালোচনাকারী লাইভ সম্প্রচার কারী টিভি চ্যানেল বন্ধ করে, গনহত্যার লাশ গুম করে ও রক্ত ধুয়ে মুছে, এক রাতেই সব শেষ হয়ে যাবে? ক্লান্ত, ঘুমন্ত মুসাফির আলেম ওলামার রক্ত, শাহাদাত, আহতদের আর্তচিৎকার সব কি নিমিষেই হাওয়ায় মিশে যাবে? আল্লাহ ও জনগণ কি তার কোন বিচার করবেনা?

আওয়ামীলীগের ফ্যাসিস্ট চরিত্র, হাসিনা সরকারের চোখ ঝাঝালো সাইনবোর্ড, মুচকি হাসি, সিন্ডিকেট মিডিয়া প্রচারণায় আলেমরা ক্ষমতায় আসলে গার্মেন্টস এ নারীরা চাকুরী করতে পারবে না, ঘর থেকে বের হতে পারবেনা এসব অপপ্রচারে জনগণ সাম্রাজ্যবাদীদের পরিকল্পনার কাছে হার মানবে? অসম্ভব। আমি এটি বিশ্বাস করিনা ।

ইসলাম মানুষের সহজাত জীবন ব্যবস্থার নাম। মানুষকে ইসলাম তার সুখ-শান্তি, নিরাপত্তা বিধানের কথা বলেছে। নিজের সতীত্বকে বজায় রাখতে বলা হয়েছে নারী-পুরুষ উভয়কে। সুতরাং আজগুবি অপপ্রচার চালিয়ে, বেহায়পনা-নোংরামী-অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিয়ে, ইসলামের স্বরুপকে বিকৃত করে যারা এদেশে ক্ষমতা চিরতরে কুক্ষিগত করতে চায় তাদের মুখরোচক বক্তব্য, রুপকল্পের বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা বলে আর ইসলামপ্রিয় জনতাকে ধোঁকায় ফেলা যাবেনা। তাই সম্মিলিত প্রয়াস এখুনি জরুরী। যেখানে থাকবেনা রক্ত পিপাসু কোন দানব, যেখানে শোনা যাবেনা সন্তানহারা মায়ের আহাজারী অথবা পিতাহারা সন্তানের বুক ফাঁটা আর্তচিৎকার। যেখানে থাকবে না ভেদাভেদ, থাকবে সাম্য, শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ১৭ কোটি মানুষের ৩৪ কোটি হাতের এগিয়ে যাওয়ার সম্মিলিত প্রয়াস। আমার সোনার বাংলাদেশ ।


Leave a Reply