ইসলাম বিদ্বেষীদের ৫ মে গণহত্যার উল্লাস অতঃপর ইসলাম পন্থীদের ভাবনা

14. May 2014 Uncategorized 0

বাংলাদেশে ৫ মে ২০১৩ ইংরেজি এক ভয়াল কালো অধ্যয়ের দিন। রাতের অন্ধকারে নামাজরত,যিকিরত,ঘুমন্ত আলেম-ওলামা ও মুসল্লিদের নির্বিচারে গনহত্যার রাত। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের নেতৃত্বে ইসলাম পন্থীরা খোদাদ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই তাদের অপরাধ। স্যাকুলররা দিনের পর দিন,রাতের পর রাত ইসলাম বিদ্বেষী কাজে উল্লাসে উল্লসিত হলেও সেটি অপরাধ নয় বরং এ ঘুনেধরা সমাজব্যবস্থায় এর পরিচয় হল আধুনিকতা,প্রগতিশীলতা ও স্বাধীনতা ! এমন নির্মম ইসলাম বিদ্বেষী খোদাদ্রোহী কর্মকান্ডকে পশ্রয় দিয়ে উল্টো আলেম-ওলামাদের সাথে যুদ্ধ ঘোষনা করে আওয়ামী সরকার চিরস্থায়ী ভাবে মুসলমানদের হদয়ে স্থায়ীভাবে ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার পর সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানদের এ দেশে ইসলামপন্থীদের স্থায়ী ভাবে ধারনা জন্মেছে যে,এ সরকার স্থায়ীভাবে ইসলামী শক্তিকে নিধনের জন্য মাঠে নেমেছে। তাই আলেম-ওলামারা কি আর বসে থাকতে পারে ? এ ঘটনার পূর্বে আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধে কুটুক্তিকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন নিশ্চয় তারা ভাবছে যে, আসলে স্থায়ীভাবে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্টিত করা ব্যতিত এর সম্মান রক্ষা সম্ভব নয়। তাই নিজেদের বিভেদ বাদ দিয়ে “বুনিয়ানূম মারসূসের” পন্থা অবলম্বন করা এখন সময়ের নির্মম বাস্তবতা। কোন চেষ্টা ছাড়া যেমন কোন উদ্দেশ্যে সফল হতে পারেনা তেমনি চেষ্টা ছাড়া আল্লাহর রাজ কায়েম করাও আদৌ সম্ভবপর নয়। শয়তান তার কাজ নিয়ে কর্মতৎপর। অথচ মুসলমানরা ভয় ও জাগতিক কথিত বাস্ততার কাছে নিজেকে বিকিয়ে দিচ্ছে। তাই এখন সময় ঘুরে দাড়াবার। ঈমানদাররা মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী। তাদের হারাবার কিছু নেই। সুতারাং হতাশার তিমিরে হাবুডুবু খাওয়া মানে হলো নিজের ক্ষতি করতে নিজেই লিপ্ত হওয়া।

ইসলাম পন্থীদের ভাবনার সেকাল
১৯৮১ সালের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের অধিকাংশ আলেমরা ইসলামে রাজণীতি আছে তা স্বীকার করতেন না। শুধু জামায়াতে ইসলামী ইসলামী রাজনীতির প্রচার-প্রসারের মাধ্যমে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্টার কথা বলে আসছিল। পীর সাহেব বা খানকার খাদেমরা ইসলামে রাজণীতি আছে এবং সমাজব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন জন্য ইসলামী রাজণীতির বিকল্প নেই তা জানলেও অস্বীকার করার মূল কারণ হলো ওনারা পীর দরবার ও খানখায়ের আয়েশী জিন্দেগী থেকে বের হয়ে আসতে নারাজ ছিলেন। ইসলামী রাজণীতি পক্ষে কর্মকান্ড পরিচালনা করায় সে সময়ে অনেক আলেম জামায়াতে ইসলামী সম্পৃক্তদের ফিরকাবাজ, নতুন ইসলামের প্রবর্তক ইত্যাদি বলে ফতোয়া দিতে কুন্ঠা বোধ করেননি। জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমীর অধ্যাপক গোলাম আজম আশির দশকে আলেমদেরকে ইসলামী রাজনীতি সম্পৃক্ত করতে এবং ১৯৯৪ সালের দিকে এদেশের সর্বস্তরের হক্কানী আলেম ওলামাদের সাথে নিয়ে ইসলামী ঐক্য তৈরী করতে চেয়েছিলেন। এর কার্যক্রম অনেকদূর পর্যন্ত আগালেও কিছু আলেম ওলামাদের চরম একগুঁয়েমি ও নির্বোধ আচরণের কারণে সবপ্রচেষ্ঠা ভেস্তে যায়। অনেকে মনে করতেন যে ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্টিত হলে এতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্ব দিবে,তাই নেতৃত্বের খায়েশে নানা অযুহাতে ঐক্যে চুড়ান্ত রুপ ধারণ করতে পারেনি,যদিও বা সে সময় জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য ছিল যে নেতৃত্বে যারাই থাকুক না কেন ইসলামীক এলায়েন্স হওয়াটাই জরুরী। পরবর্তীতে তিনি ‘ইসলামী ঐক্য ইসলামী আন্দোলন ‘নামে একটি বইও লিখেন, এতে ঐক্যের ব্যাপারে বিস্তারিত পদক্ষেপ প্রচেষ্টার দিক গুলো তিনি উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে আলেম ওলামাদের বোধদয়ের কারণে আলেমরা ইসলামকে ব্যক্তি-পারিবারিক জীবন ও রাস্ট্রীয় জীবনে প্রতিষ্টার মানসে ইসলামী দলের আত্নপ্রকাশ করেন। ইতোপূর্বে জামায়াত একক ভাবে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্টার কথা বললেও আল্লাহর অশেষ রহমতে বেশ কয়েকটি ইসলামী দল এখন ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্টার কথা বলে, এর ফলে সাধারণ মানুষের ভিতর স্যাকুলার রাষ্ট্রের বিপরীতে মন-মস্তিস্কে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্টার প্রবল আশা সঞ্চারিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রচলিত ছিল -‘মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত” এখন জামায়াতে ইসলামী প্রমান করেছে যে আলেম ওলামারা সংসদে ও প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। সময়ের ব্যবধানে রাষ্ট্রেরও নেতৃত্ব দেবে ইনশাআল্লাহ!

ইসলাম পন্থীদের ভাবনার একাল
সরকার নিজেদের প্রয়োজন মাফিক আলেমদের ব্যবহার করে এবং তাদের উপর নানা ছোঁতোয় নির্যাতন চালায়। এতদিন এর মাত্রাতিরক্তা ধর্য্যে সীমায় থাকলেও ৫ মে ২০১৩ সালের মাস খানেক আগ থেকে অদ্যবধি সরকারের আচরণ ধর্য্য-সহ্য সীমানা পেরিয়ে গেছে। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল কর্তৃক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এসিষ্টেন্ট সেক্রেটারী জেনারেল জনাব আব্দুল কাদের মোল্লার যাবৎজীবন কারাদন্ডাদেশ ঘোষনার পর রাজধাণীর শাহাবাগ চত্তরে তার ফাঁসির(!) দাবীতে গণজাগরণ মঞ্চের উত্থান ঘটে। যেখানে সারাদেশের স্যাকুলারদের জয়ধ্বনি উপচে পড়ছিল। এ মঞ্চ সরকারের মদদপুষ্ট ও বিদেশী ষড়যন্ত্রের একটি আয়োজন ছিল ,যেখানে হলুদ মিডিয়া দুধে ধুয়ে এ আন্দোলনকে জনগণের আন্দোলন হিসাবে প্রতিষ্টার ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়েছিল। যা মঞ্চ শুরু হওয়ার প্রথমদিকে অনেকের বুঝতে অসুবিধা হলেও কালক্রমে তা স্পষ্ট হয়ে যায়। গণজাগরণ মঞ্চ কসাই কাদেরের অপরাধের দায় ভার জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার উপর চাপিয়ে দেয়ার হীন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফাঁসির দাবী নিয়ে গড়ে উঠলেও পরবর্তীতে তা আল্লাহ,আল্লাহর রাসুল,কুরআন,নামাজ,রোজা,ইসলাম,দাড়ি,টুপি নিয়ে কটাক্ষ, নারী স্বাধীনতার নামে অশ্লীলতা ছড়ানো ও দেশে ইসলামী রাজনীতি বন্ধের দাবী তুলে। এমন ইসলামী বিদ্বেষী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন ইসলাম প্রিয় জনতার হৃদয়ে দানা বাঁধতে থাকে। এ সময় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম এর বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্য -বিবৃতি দিতে থাকে। সরকারকে ইসলামী বিধ্বংসী গণজাগরণমঞ্চ বন্ধ সহ ১৩ দফা দাবী মেনে নেয়ার জন্য আহবান জানায়। সরকার তাদের দাবী প্রত্যাখ্যান করে অঘোষিত ভাবে স্ব-ঘোষিত অববয়বে ১৩ দফার কোন যৌক্তিক জবাব বা সমাধান না দিয়ে এর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করে। স্বাভাবিক ভাবে হেফাজত ইসলামী উত্থাপিত দাবী এদেশের ইসলাম প্রিয় সকল মানুষের দাবী হওয়ায় এ আন্দোলনে ধীরে ধীরে আম জনাতা সম্পৃত্ত হতে থাকে।
সরকার এত দিন পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে জুলুম নির্যাতন চালালেও জামায়াতের আন্দোলনের সাথে হেফাজতের নতুন আন্দোলন যুক্ত হওয়ায় সরকার হত বিহবল হয়ে সারা দেশে এক যোগে আলেম -ওলামাদের উপর দলন-পিড়ন চরম পর্যায়ে শুরু করে। ইতোপূর্বে জামায়াত-শিবিরের জনশক্তিরা জেল-জুলুমের শিকার হলেও অধিকাংশ আলেমরা তাদের গায়ে রাজনীতির গন্ধ লাগার ভয়ে নিরব ছিল। এখন নিজেদের অস্তিত্ত(ঈমান) রক্ষার তাগিদে তারাও কথা বলছে। অবশ্য সরকার আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য গণজাগরণ মঞ্চের পাশাপাশি আলেমদের আন্দোলন বিরুধী কিছু কেনা আলেম-ওলামাদের নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমিতি করে ইসলামের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ঘৃণ্য অপচেষ্টা চালায়। তবে হক্কানী আলেম-ওলামরা একাট্টা থাকায় তারা খুব বেশী সুবিধা করতে পারেনি।

ঢাকার এক কওমী মাদ্রাসার মুহতামিম সরকার বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে জামায়াত-শিবিরের লোকরা শহীদ হচ্ছেন বলে দাবী করেন। এতে সাংবদিকরা ওনাকে জিজ্ঞেস করলেন কেন তাদেরকে আপনি শহীদ বলছেন? প্রতুত্ত্যরে তিনি বলেন তাদের শহীদ বলবনা কাদের কে শহীদ বলব? যারা নারায়ে তাকবীর আল্লাহুয়াকবার বলে পুলিশের গুলির সামনে প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবন দেয় !! অথচ আশির দশকের সময় তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে বইও রচনা করেছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ! আলেম-ওলামাদের চিন্তার রাজ্যে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে। যারা জামায়াত শিবির বা ইসলামী দলগুলোর মধ্যে মত পার্থক্যের রেখা টেনে দিতেন তারাই এখন দ্বীন এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মূখ্য ভুমিকা পালন করছেন। তারা এখন ইসলামের জন্য যারা কাজ করছে সবাই একযোগে একসাথে কাজ করা জরুরী বলে মনে করেন । এই অনুভূতি অনেক আগে জাগ্রত হওয়ার কথা থাকলেও অনেক দিন পরে তা হল। ইসলাম প্রিয় জনতা আলেম-ওলামাদের নেতৃত্বে ভবিষ্যতে দেশ এগিয়ে যাবে বলে মনে করে। আল্লাহ চাহেতো এ অনুভুতি বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্টার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে । ইনশাআল্লাহ।

৫-৬ মে’র ঘটনার ক্ষত কি করে ভুলবে ওরা?
৫-৬মে ২০১৩ রাতের অন্ধকারে নামাজরত,ইবাদতরত,যিকিরত,ঘুমন্ত আলেম-ওলামা ও মুসল্লিদের নির্বিচারে গনহত্যার ভয়াল কালক্ষণ। ইসলাম বিদ্বেষীরা হয়ত মনে করেছিল সাময়িক ভাবে এর প্রতিক্রিয়া অনুভত হলেও কালের গর্ভে এসব বিভৎসতা হারিয়ে যাবে। হয়তো তাদের জানা নেই সেই ১৮৩০ সালে ৬ মে’র বালাকোটের ইতিহাস। যেখানে শাহ সৈয়দ আহমদ ব্রেলভীর নেতৃত্বে তার সহযোদ্ধারা জুলুম শোষনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে এক অনিবার্য জিহাদে অংশগ্রহন করেছিলেন। যেখানে দ্বীনের ঝান্ডা উড্ডীন করতে গিয়ে শত শত মুজাহিদ শহীদ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে এ আন্দোলন খুব বেশী সংগঠিত ভাবে এগিয়ে না গেলেও সে “জীবনোৎসর্গী বালাকোট” মুসলমানদের জন্য প্রেরণার বাতিঘর হয়ে চিরদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ ছড়িয়ে মুক্তির সুর্য্য ছিনিয়ে আনতে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে। কারবালা,গ্রাণাডা,জেরুজালেম,বালাকোট,আর বালকোট থেকে শাপলাচত্তর সব একিই সুঁেতায় গাঁথা । নাস্তিক্যবাদী সরকারের আচরণে সারা জাতি স্তম্বিত। সরকার ৫ মে হেফাজতের ব্যানারে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি পালনে মৃদু অনুমতি দিয়ে বিকেলে শাপলা চত্তরে সমাবেশের অনুমতি দিয়ে সারা দিন আগত মুসল্লিদের উপর অবর্ননীয় নির্যাতনের ঘৃন্য ইতিহাস রচনা করে। এ যেন গ্রানাডা ট্রাজেডীর পুনারাবৃত্তি! পথে পথে ,হাটে-ঘাটে বাঁধা আরা বাধাঁ। এ যেন রক্তের হোলি খেলা চলছিল। শাহাদাত,গ্রেফতার,আহত হওয়ার খবর জনে জনে ছড়িয়ে পড়ছিল। এর পরও ঈমানে বলে বলিয়ান আগত মুসল্লিদেরকে নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আওয়াজ ঠেকায় কে? সকল বাঁধা বিপত্তি মাড়িয়ে সবাই শাপলা সহ এর আশ পাশের এরিয়ায় জড়ো হতে লাগল। এমন বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার ইতোপূর্বে আর কখনো দেখেনি বাংলাদেশ। গগণবিদারী নারায়ে তাকবীর আল্লাহুয়াকবার শ্লোগানে শ্লোগানে নাস্তিক্যবাদের মসনদ প্রকম্পিত হচ্ছিল। আগত আলেম-ওলামা-মুসল্লিদের দাবী ছিল একটাই যারা আল্লাহ,রাসুল,ইসলাম ,কুরআন নিয়ে কটাক্ষ করছে তাদের শাস্তি দিতে হবে। তাদের প্রশ্ন ছিল গনজাগরণ মঞ্চ দিনের পর দিন ইসলামের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে দেশে বিভেদ সৃষ্টি করতে সরকারী পৃষ্টপোষকতায় লালন- পালন করা হচ্ছে কেন? কেন আলেম ওলামাদের ন্যায্য দাবী আন্দোলনের জন্য একদিন তারা শাপলাতে অবস্থান করতে পারবেনা? কেন আল্লাহ,রাসুল (সঃ) ব্লগ ও বিভিন্ন মাধ্যমে কটাক্ষ করলে অবমাননাকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছেনা ? তাদের অভিযোগ ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যঙ্গ বা কটাক্ষ করলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার হয়। কেন আল্লাহ ও রাসুলের অবমাননাকারীদের গ্রেফতার হবেনা? তাহলে কি আল্লাহ ও রাসুলের চাইতেও শেখ হাসিনার মযার্দা বেশী?

মসনদ হারানোর ভয়ে মিডিয়াতে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের পক্ষে আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক বলল্লেন সন্ধ্যার পরেই যেন তারা শাপলা চত্তর ছেড়ে দেয়, আর যদি ছেড়ে না যায় তাদেরবিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে! এমতাবস্থায় শাপলায় হেফাজত মঞ্চ থেকে ঘোষনা দেয়া হল আমাদের আমীর আল্লামা শফী আসলেই আমরা ওনার নির্দেশ শুনেই স্থান ত্যাগ করব, এর আগে নয়। সরকার ওনাকে সমাবেশ স্থলে আনতে না পারলেও পরদিন তার পরিচালিত হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় হেলিকপ্টারে করে পাঠিয়ে দিয়েছিল। যারা তাকে হেলিকপ্টারে করে হাটহাজারীতে পাঠিয়ে দিয়েছিল তারা কেন সেদিন সমাবেশ স্থলে ওনাকে আনতে পারেনি বা আনেনি তার জবাব এখনও অজানাই রয়ে গেল। অনেকে মনে করেন যে সরকারের সদিচ্ছা থাকলে তাকে সমাবেশে এনে সমাবেশে আগতদেরকে তাদের গন্তব্যে পাঠিয়ে দেয়া যেত। তাই প্রশ্ন উঠে রাতের সরকার আঁধারে আলেম-ওলামাদের হত্যা করার খায়েসেই কি শফী সাহেবকে সেখানে আনা হয়নি! নিশ্চয় এক সময় এর জট খুলবে, ইতিহাসের পাতায় আওয়ামী ঘাতকতার হিংস্র পরিকল্পনা স্থান করে নেবে। সরকারের এমন নির্মম আচরণ ও নির্যাতনের কারণে মানবিক বিবেচনায় ঢাকাবাসীকে তাদের সহযোগীতার তাত বাড়ানোর আহবান জানানো হয় বি,এন,পির পক্ষ থেকে । এতে সরকার আরো পিলে চমকে যায়! সরকার বাহাদুর মনে করে এই মনে হয় ক্ষমতার সোনার বন্ধি পাখি উড়াল দিয়ে অন্যের হাতে চলে গেল।তারা ধরে নেয় আগামীকাল আর তাদের হাতে ক্ষমতা থাকছে না! তাই গণহত্যা করে হলেও সেদিন তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে সিদ্ধহস্ত ছিল।

এর যা ঘটল সবই নিকট অতিত। শাপলা দিয়ে যখন যাই এখনও মনে হয় কোন মুসলমানের লাশ,কষ্টে-ক্লিষ্টে অব্যক্ত গোঙ্গানির শব্দ, রক্তের গন্ধ,মনে হয় এখনো আবছা ছোব ছোব রক্ত লেগে আছে রাস্তা লাগোয়া বানিজ্যিক দালান গুলোর সিড়িতে, পিছ ঢালা পথে। সরকারের তলপিবাহী মিডিয়া ছাড়া সব বন্ধ করে দিয়ে এভাবে কিলিং মিশন? ১৫০০০০ গোলাবারুদ খরচ? কার বিরুদ্ধে? এ সরকার দেশের না অন্যের? যারাই প্রতিবাদ করল তাদেরকে থামিয়ে দেয়া হল। মানবাধিকার সংস্থা গুলো বোকা হয়ে গেল,কেউ কেউ জঙ্গিবাদের উত্থানের বিরুদ্ধে এ অভিযানকে বাহ বাহ দিল! মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ হত্যাযজ্ঞের তালিকা পেশ করলে এর নির্বাহী পরিচালক এ্যাড.অদিলুর রহমানকে কী না করল? দিগন্ত টিভি,ইসলামিক টিভি , আমারদেশ পত্রিকা প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়া হল। এ যেন সভ্য সমাজে ৭৫ সালের বাকশাল নবচেতনা কায়েম! মাহমুদুর রহমান সরকারের ঘৃন্য চরিত্র উম্মোচনে সত্য তুলে ধরায় এখনো কারাগারে নিস্পেষিত। হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবু নগরী সহ কত আলেম-ওলামাদের এ আন্দোলনে নেতৃত্ব ও পৃষ্টপোষকতার অভিযোগে গ্রেফতার এবং রিমান্ডের নামে নির্যাতন করে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছিল তার কোন ইয়াত্তা নেই। সে দিনের গণহত্যার এখনো সঠিক পরিসংখ্যান কেউ দিতে পারেনি। নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও সরকারের আগ্রাসী আচরণে ভয়ে তটস্থ হয়ে তাদের পরিবারের প্রিয় লোকটি হারিয়ে যাওয়ার কথা শুধু বুকেই চেপে আছে, ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। সে সংখ্যা , প্রকৃত নির্দেশদাতা ও হত্যাকারীদের আসল পরিচয় জানতে হয়তবা আরো ক’টা দিন আমাদের প্রহর গুনতে হবে। সত্য জোর করে কখনো দাবিয়ে রাখা যায়না । সত্যের উম্মোচন হবেই ইনশাআল্লাহ!

গণজাগরণমঞ্চের স্বরুপ উম্মোচন!
গণজাগরণমঞ্চ শুরুর দিকে ‘ব্লগার এ্যান্ড অনলাইন এক্টিভিটসে’র ব্যানারে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহাবাগে আন্দোলন শুরু করলেও সময়ক্রমে এর আসল পরিণতি সহজে অনুমেয় হতে লাগল। এই আন্দোলন নিছক ব্লগারদের কোন আন্দোলন ছিলনা ,এ আন্দোলনের সাথে নির্দোষ জামায়াত নেতাদের শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার নিমিত্তে হত্যার ষড়যন্ত্র ও দেশে ইসলামী চেতানাকে ভুলন্ঠিত করার জন্য নাস্তিক্যতাবাদী দেশী-বিদেশী পরিকল্পনারও যোগসাযোশ ছিল, যা এখনো থেমে নেই। যে কারণে সে আন্দোলন কিছু কালের জন্য দিনে দিনে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ রুপ ধারণ করে। কেউ কেউ বলল্লেন স্বাধীনতার চেতনা উদ্ভাসিত বাংলাদেশ!উচ্ছাাসিত বাংলাদেশ! অবশ্য এ প্রশ্ন সবার মুখে মুখে ছিল যে এক পক্ষকে(নাস্তিক্যবাদী) নিরাপত্তা বলয়ে রেখে ,ভুরিভোঁজ করিয়ে অন্যপক্ষকে (তাওহীদবাদী)বন্দুকের নলে হতাহত করে হাস্যকর আন্দোলন করে লম্প-ঝম্প করা এ কেমন চেতনা? আর সরকারী পৃষ্ট-পোষকতায় জনগনের আন্দোলন হয় এটি অন্তত আমার জানা নেই। সেই যাই হোক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এমরান এইচ সরকার নিজের বঙ্গবন্ধুয়ী চেতনা বিসর্জন দিয়ে সাধু সেজে শুধু জয় বাংলা চেতনাকে ধারণ করে সকল রাম-বাম ঘরনার সংগঠন গুলোকে নিয়ে দেশের সকল ডানপন্থী প্রতিষ্টান গুলোকে রাজাকার আখ্যাদিয়ে হিরু বনে যাওয়ার চেষ্টা করলো। দিনে দিনে চেহারা-ছুরুত আরো নাদুস-নুদুস হতে লাগল। ছবিতে,মিডিয়াতে প্রতিদিন নতুন নতুন পাঞ্জাবী পড়নে। একের পর এক কর্মসূচী দেশবাসীর উদ্দেশ্য ছেড়ে দেয়, আন্দোলনের নামে লক্ষ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে দেশ- বিদেশ থেকে। জামায়াত-বি,এন,পি পন্থী প্রতিষ্টানের মালিকদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করেছে অহরহ , যে সকল প্রতিষ্টান কোন রাজনৈতিক পরিচয় ছিলনা তাদেরকেও জামায়াতের তালিকভুক্ত প্রতিষ্টান ঘোষনা করার ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এমরান এইচ সরকার নিজে সরকার বনে গেলো। হাস্যকর কর্মসূচি দিয়ে দেশের মানুষের চেতনাকে সমৃদ্ধ করতে লাগলো । আসল সরকারও নিজেদের খেলা নিজেরা উপভোগ করতে লাগলো।

এতদিনে চেতানা সমৃদ্ধ আন্দোলনে এখন ফাঁটল ধরেছে। ছাত্রলীগকে মোটা অঙ্ক না দেয়ায় এ আন্দোলনের সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে তারা ইতোমধ্যে ঘোষনা দিয়েছে। এখন আর ইমরান সরকার চাঁদার ভাগ তাদের সহযোগীদের দেয় না । তাই পরস্পর পরস্পরকে বহিস্কার করছে। এক পক্ষ দাবী করে আমরা আসল অন্যপক্ষ দাবী করে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ধারী। ইমরান সরকার কোটি টাকার পাহাড় গড়েছে,বিদেশে টাকাও নাকি পাচার করেছে! মিডিয়ায় তার চাঁদাবাজীর কুকির্তির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে আর বুঝতে বাকি থাকেনা এ আন্দোলন আসলে জনগণের আন্দোলন ছিলনা এ আন্দোলন ছিল মেকি,সাজানো, ষড়যন্ত্রের অংশমাত্র। আর পাতানো আন্দোলন কখনো লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনা।

হেফাজতে ইসলামীর হালচাল
অরাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে হেফাজতে ইসলামী চট্টগ্রামের হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা থেকে আল্লামা শফীর নেতৃত্বে শুরু হলেও সরকারের নাস্তিকতাবাদীদের পৃষ্টপোষকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে এ সংগঠন অনেকটা রাজনৈতিক রুপ লাভ করে। এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে যারা আছেন,ছিলেন তারা অধিকাংশই কোন না কোন ইসলামী সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতা। বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এখানে নেতৃত্ব প্রদান করলেও আল্লামা শফীর নেতৃত্বে দেশের সর্বস্তরের মুসলমানরা গনজাগরণমঞ্চের খোদাদ্রোহীতার বিরুদ্ধে সহমত পোষন করে এ আন্দোলনে অংশ গ্রহন করেন। এ আন্দোলন কোন একক ব্যক্তির আন্দোলন ছিলনা ,এ আন্দোলন ছিল ইসলাম প্রিয় তৌহিদী জনতার । যে কারণে কোন বাঁধাই সেদিনের ঢাকা আসার পথকে অবরুদ্ধ করতে পারেনি। আল্লাহ ও রাসুলের প্রেমে মশগুল মানুষ গুলোকে সরকার কার ইশারায় পাখির মত গুলি করে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলল তা এখনো অজনার তিমিরেই রয়ে গেল। সরকার আন্দোলনকে দমাতে গ্রেফতার,নির্যাতনের ষ্টিম রোলার চালিয়ে আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত সকলকে পিশে নিঃশেষ করতে মরিয়া হয়ে উঠে। মসজিদ,মাদ্রাসা ,বাসা-বাড়ী গুলোতে তল্লাশির নামে মারাত্নক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ৫ মের ঘটনা পরবর্তিতে মাহে রমজানে বিভিন্ন মাদ্রাসার মুহতামিম সহ শিক্ষকরা মাদ্রাসার জন্য অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজনে দেশের বাইরে যেতে চাইলেও তাদেরকে যেতে দেয়া হয়নি। প্রতিবছর রমজান, বা হজ্বকে কেন্দ্র করে আলেমরা মাদ্রাসার জন্য চাঁদা সংগ্রহ করেন, যা দিয়ে তারা মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন ও ছাত্রদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন। সরকারের বাঁধা দেয়ার উদ্দেশ্য একটাই মাদ্রাসা গুলো যাতে অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যেখানে সরকারেই উচিৎ ছিল তাদেরকে সহযোগীতা করা , সেটি না করে শুধুমাত্র নাস্তিক্যবাদীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় সরকার মাদ্রাসা গুলো বন্ধ করে দেয়ার ভয়াবহ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে! যেমন হাসিনা পুত্র জয় বলেছিলেন আমরা মাদ্রাসা ছাত্র কমানোর কাজ শুরু করে দিয়েছি! তবে এটি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে সরকার যত বাঁধাই দিক না কেন এসকল দ্বীনি প্রতিষ্টান তারা বন্ধ করতে পারবে না। কারণ এ সকল প্রতিষ্টান গুলোর প্রতিটি ধুলি কনায় ইসলাম প্রিয় জনতার ঘাম মিশে আছে, এর শীকড় অনেক গভীরে। সরকার বিদেশে থেকে অর্থ জোগাড় করতে না দিলেও নিশ্চয় এর একটা সুব্যবস্থা আল্লাহই করে দিবেন।

এ আন্দোলনের সাথে সকল ইসলাম প্রিয় মানুষের আবেগ অনুভূতি জড়িত। এ আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাদের শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করবেন এবং আমাদের সবার উচিৎ তাদের পরিবার গুলোকে আমাদের পরিবারের মত করে দেখা।তাদের সুখে -দুঃখে পাশে দাড়ানো। যারা জীবনের তরে পঙ্গু হয়ে গিয়েছেন তাদের দেখভাল করা। নিঃসন্দেহে যারা এখনো নেতৃত্বে আছেন ,যাদের ডাকে আল্লাহ ও রাসুলের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে ইসলাম প্রিয় তাওহীদি জনতা জীবন দিতে প্রস্তুত তারা এখন বড় মজলুম, এখন খুব তাদের অসময় চলছে।
দিব্যি সরকারের ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকান্ড অব্যহত থাকলেও হঠাৎ করে হেফাজতে ইসলামী প্রায় সকল কর্মকান্ড থেমে গেছে। এখন শুধু বক্তব্য বিবৃতিতেই সিমাবদ্ধ। মাঝখানে কমিটির রদবদল হল। আবার কেউ কেউ দলবদলও করেছেন। পত্রপত্রিকা মারফতে সরকার আন্দোলন থামাতে কাউকে কাউকে নানা টোপে ফেলার গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। জায়গা জমি দিয়ে ,সুযোগ সুবিধা দিয়েও নাকি কম্প্রমাইজ করার চেষ্টা হচ্ছে। এর সঠিক উত্তর শুধু হেফাজত নেতারই দিতে পারবেন। আমি যা লিখলাম এসব শুনা কথা। আমরা ধারণা এসব অবাস্ত শুনা, তারা সে সব প্রশ্নের উতুঙ্গশীর্ষে, প্রত্যাশা ধারনাই যেন সত্য হয়। যদি তা সত্যি হয় তা হবে আত্নঘাতি,তৌহিদী জনতার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ!আমরা এমন আঁতাত চাইনা যেখানে লক্ষ কোটি আলেম-ওলামা বেঁচে থাকতে ইসলাম বিদ্বেষীরা ইসলামের সুর্ন্দয্য নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা অব্যাহত রাখবে,আর আমরা নির্জিব নেকড়ের মত ফেলফেল করে তাকিয়ে থাকব।

কেন গণজাগরণমঞ্চ পরাজিত ইসলাম পন্থীরা বিজয়ী?
জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহাবাগে মেকি আন্দোলন শুরু করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা ও মিডিয়া সন্ত্রাসের মাধ্যমে মিরপুরের কসাই কাদের মোল্লার অপরাধের দায় নিরাপরাধ কাদের মোল্লার উপর চাপিয়ে দিয়ে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে তাঁর ফাঁসির কার্যকর করে। কথিত গণজাগরণমঞ্চের কর্তাব্যক্তিদের ভাষায় কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মা শান্তি পেয়েছে! আবার অপর দিকে ইসলাম প্রিয় তৌহীদী জনগণ মনে করেন যে, আব্দুল কাদের মোল্লার শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করে সবচেয়ে বেশী সফল হলেন। তাঁর শাহাদাত ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের হৃদয়ে কালের পর কাল শাহাদাতের তামান্না যোগাবে,তারা বাতিলের কোন চক্রান্তের কাছে শীর নত করবেনা। মঞ্চের মালিকরা হয়ত জানেন না শহীদেরা আমাদের বড় সম্পদ, গড়ে গেছে শাহাদাতের দ্বীধা হীন রাজপথ। শহীদের প্রতিটি রক্তকনা থেকে জন্ম নেয় এক একজন বিপ্লবী, যাদের হৃদয়ে জন্ম নেয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রচন্ডদ্রোহ। যে দ্রোহে ক্ষমতাচ্যুত হয় জালিমরা। যে বিপ্লবীদের এগিয়ে যাওয়াকে থামাতে পারে না পৃথিবীর কোন শক্তি। শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা লক্ষ লক্ষ প্রানের সঞ্চার করেছেন আল্লাহর কালিমাকে উড্ডিন করার জন্য জীবন বিলিয়ে দেওয়ার প্রয়াসে। মানুষ হিসেবে আব্দুল কাদের মোল্লা মৃত্যু বরণ করতেন যেভাবে অধিকাংশ মানুষ করেন, পৃথিবীতে তাদের নিয়ে খুব আলোচনা হয়না; কাদের মোল্লার ব্যাপারে ও হয়ত এর ব্যতিক্রম হতনা। আর এখন আব্দুল কাদের মোল্লাকে আন্দোলনের কমীরা ভুলতে পারেনা, ভুলা সম্ভব নয়। যতদিন ইসলাম পন্থীদের আন্দোলন থাকবে ততদিন তিনি থাকবেন অনাগত ভবিষ্যতের মনিকোঠায়। যেমন শহীদ হাসানুল বান্না, সাইয়েদ কুতুব, আব্দুল মালেক কে কেউ ভুলেনি।
আর কপট গণজাগরণমঞ্চ একজন নিষ্পাপ মানুষকে হত্যার দায়ে খুনি। সময়ের ব্যবধানে খুনিদের বিচার হবে ইনশাআল্লাাহ। গণজাগরণমঞ্চ এখন গণগন্ডোগোলে অস্থির। ইসলাম পন্থীরা নিজেদের ভিতর ঐক্যে প্রচেষ্টারত। আল্লাহ চাহেনতো এর চুড়ান্ত পর্যায়ের ফলাফল আমরা অচিরেই দেখতে পাব।

ইসলাম পন্থীদের ৫মের কর্মসূচী ছিল নাস্তিক্যবাদীদের মুখে প্রচন্ড চপেটাঘাত
ইসলামের বিরুদ্ধে বিষেদাগার কারীদের বিচারের দাবিতে দেশের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার ৫ মের ঢাকা চল কর্মসূচী ছিল বাতিলের মুখে প্রচন্ড চপেটাঘাত । নাস্তিকরা আল্লাহ ও রাসূল (স.) এর সম্মানকে ধুলায় মলিন করে প্রকাশ্যে লম্প-ঝম্প করবে আর অল্লাহর বান্দারা রাসুল (স.)এর উম্মত হয়ে সহ্য করবে এটি বড়ই বেমানান। তাই ঈমানের দাবী থেকেই যার যা আছে শাহাদাতের তামান্না নিয়ে ঢাকা অভিমুখে দৃঢ় পদ ভারে যাত্রা শুরু করে। নাস্তিকরা মনে করেছিল ভয় ভেলকি দেখিয়ে আগতদের দমন করা যাবে । যখন তারা তাদের সাময়িক চক্রান্তে সফল হলনা, তৌহিদী জনতার স্রোতের ঢল সারা ঢাকা জুড়ে আছঁড়ে পড়ল তখন তারা আরো ঘৃন্য পথ বাছাই করে নিল । সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় মুসুল্লিদের উপর শুধু গুলি, টিয়ার সেলের মধ্যে সিমাবদ্ধ না রেখে নির্মম হত্যার উল্লাসে মেতে উঠে। লাঠি দিয়ে সাপের মত পিটিয়ে মারা, আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের পার্শ্ব এরিয়ায় জবাইকরে হত্যা করা ও আল্লাদ্রোহী প্রশাসন দিয়ে পাখির মত গুলি করিয়ে নির্বিচারে ঘুমন্ত ইবাদতরতদের হত্যা করে সব শুনশান করে তারা একক আধিপত্য কায়েম করতে চেয়েছিল । কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে অনেক ভাইয়ের সেদিনের শাহাদাত সারাদেশের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতাকে ঈমানী চেতনায় উদ্দিপ্ত করে শাহাদাতের জজবা সৃষ্টি করে, দেশব্যাপী এ সরকারের বিরুদ্ধে প্রচন্ড ঘৃনা ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় ইসলামী বিদ্ধেষীদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ। সেদিন এই যেন ফরিয়াদ ছিল সবার মুখে অন্তরে হে আল্লাহ! আমাদেরকে এ জালিম শাসকের হাত থেকে রক্ষা কর।
দেশের ইতিহাসে আলেম ওলামাদের অংশকে যারা অবহেলার চোখে দেখত এ সমাবেশের পর সবার টনক নড়ল , তাদের কাছে এ চরম বার্তা পৌছল যে বাংলাদেশে ইসলাম পন্থীদের অবস্থান সুগভীরে। নতুন করে বিশ্লেষণ শুরু হল , আলেম-ওলামা মসজিদ- মাদরাসার সাথে জড়িতদের বাদ দিয়ে দেশে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারেনা । ক্ষমতাসীনদের হৃদকম্পন সৃষ্টি করে দিয়েছিল এ সমাবেশ । দেশের আলেম ওলামারাও নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান সম্পর্কে হীণমণ্যতা থাকলেও এখন বিশ্বাস জন্মেছে দেশে কিছু করতে চাইলে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে আলেম-ওলামাদের উপেক্ষা করে কিছু করার জো কারো নেই। ইসলামের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করে বেশী সময় ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকারও সুযোগ নেই। আগামীতে যারাই ইসলাম বিরুধী ফোবিয়া দিয়ে দেশকে আক্রান্ত করতে চেষ্টা করবে, পরিকল্পনা করবে ,ততবারই চক্রান্তকারীদের এ সমাবেশ নিঃসন্দেহে ভাবিয়ে তুলবে। নাস্তিকদের মস্তকে গ্রথিত হয়েছে ইসলাম পন্থীরা জান দিতে পারে কখনও মান দিতে জানেনা।

আলেম-ওলামাদের সমাবেশকে জঙ্গিবাদের সমাবেশে রুপ দিতে সরকার মিডিয়ার যৌথ চক্রান্ত
দেশে-বিদেশে জনগনের দৃষ্টিভঙ্গিকে ভিন্ন খাতে মোড় ঘুরানোর প্রয়াসে “জঙ্গি নামা” উপখ্যান রচনার জন্য সরকার ও মিডিয়া যোগসাজসে অপপ্রচার অপবাদ চলতে থাকে দেদারসে। তারা কেবল মাটি খুঁড়ে কেচো বের করে আনতে চাননা বিষধর সাপের সন্ধানও (!) মিলাতে চান। সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা সভা সমাবেশে গলা ফাটিয়ে বলেই চলছেন পাকিস্থানের আই,এস, আই জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে দিতে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করছে। আর টেবিল টকশো পত্র পত্রিকার রিপোর্ট-কলাম গুলোতে জঙ্গিভুত তত্ত আলোচনা পর্যালোচনা করে সরগরম করে রেখেছে। সবাই এক শুরে গলাবাজী করে “স্বাধীনতার চেতনা” শান দিয়ে দেশে জঙ্গিবাদ উত্থানের চেষ্টাকে তরান্নিত করার লক্ষ্যে ব্যাপক ভিত্তিক গলাবাজি করলে কার লাভ ত্রুটি কেবল গলাবাজরাই ভাল বলতে পারবে। সমাবেশকে ঘিরে তারা যা দাবী করল তা প্রমান করতে পারলো না। যাদেরকে রাতের অন্ধকারে হত্যা করা হল কারো হাতে পাওয়া গেলনা বস্তা বন্দি টাকা বা অস্ত্র। তাদের সম্বল ছিল হাতে তাসবিহ,আল-কুরআন, জায়নামাজ, বুকে ঈমান। সরকারের দুর্ভাগ্য যে নিজেস্ব তল্পী বাহী মিডিয়া গুলো একক ভাবে মিথ্যা খবর পরিবেশন করে সমগ্র জাতিকে অন্ধকারে রেখে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার জন্য চেষ্টা করলেও আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যম সরকারের দুর্ভিসন্ধির মুখোস খুলে দেয়। সময় যত গড়াচ্ছে অপারেশন শাপলার নেপথ্যে নায়কদের ষড়যন্ত্র ততই পরিস্কার হচ্ছে। শুধু হেফাজত ইস্যু নয় সরকার দেশ পরিচালনায় মারাত্নকভাবে ব্যর্থ হয়ে নানা সময় “জঙ্গি কার্ড ” ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের দূর্বলতা ঢাকার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে হয়ত বা কোলের শিশুকে ঘুম পাড়ানো যায় কিন্তু সমগ্র জাতিকে বিভ্রান্ত করা যায় কিনা তা আমার জানা নেই। সাময়িক ভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে যারা এমন আচরণ করছে তারা মূলত: দেশে খাল কেটে কুমির আনার চেষ্ট করছে! সাম্্রাজ্যবাদীদের দেশ দখলের আহবান জানাচ্ছে। নিজেদের বক্তব্যকে সর্মথন যোগ্য করে তোলার জন্য বানোয়াট ঘটনার অবতারনা করা হচ্ছে। নিরাপরাধ মানুষকে জঙ্গি হিসাবে প্রমানের চেষ্টা করছে। এমন নির্যাতনের ষ্টীম রোলার চলতে থাকলে, অপবাদ অব্যহত থাকলে শুধু জঙ্গিবাদ কেন, দেশ সমাজ যে কোন পরিস্থিতির শিকার হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। যা কারো জন্য কল্যাণ বয়ে আনবেনা।

যে কারণে আলেম-ওলামাদের আন্দোলন পরিপূর্ণ ভাবে সফল হতে পারেনি ।
১. ৫ মে’র আন্দোলন সু-নির্দিষ্ট কোন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়নি। হেফাজত যেহেতু অরাজনৈতিক সংগঠন ছিল , আর এ ধরনের ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জিং কর্মসূচির অভিজ্ঞতাও তাদের ছিল না; যদিওবা এর নেতৃত্বে ছিলেন বিভিন্ন ইসলামী সংগঠের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
২. হেফাজত নেতেৃবৃন্দ পরিস্থিতির কারণে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছিলেন যা নাস্তিক্যবাদীদের সমাবেশে আগতদের উপর আক্রমনে সুযোগ করে দিয়েছিল।
৩. এ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত অধিকাংশ নেতেৃবৃন্দের রুটি-রোজগারের ঠিকানা মসজিদ মাদরাসাকে কেন্দ্র করে, যাদের বেতন-ভাতা সীমিত। তাদের উপর ৫ মে’র ঘটনার পর সরকারী নজরদারী ও মামলা-হামলা অব্যাহত থাকায় তারা ১৩ দফা দাবী আদায়ে কোন কার্যকারী ভুমিকা পালন করতে পারেনি।
৪. এ আন্দোলনের অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন কওমী মাদরাসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান। এ সকল প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য যে অর্থ প্রয়োজন তা মধ্যেপ্রাচ্যেসহ বিভিন্ন দেশ সফর করে তারা সংগ্রহ করতেন। সরকার এ সকল আলেমদের উপর কড়া নজরদারি আরোপ করেছে,যার ফলে তারা দেশের বাইরে সফরে যেতে পারেননি। দেশাভ্যন্তরে যারা এ সকল প্রতিষ্ঠানকে সহযোগীতা করতেন তাদের উপরও সরকারী নজরদারী ও হয়রানী অব্যাহত রেখেছে।
৫. সরকার আলেমদের একটি অংশকে বাগিয়ে নিয়ে ১৩ দফার ব্যাপারে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যা সাময়িক ভাবে আন্দোলনকে কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্থ করেছে।
৬. যারা ৫মে শহীদ হয়েছেন, নিখোঁজ হয়েছেন, আহত-পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের খোঁজ-খবর যথাযথ ভাবে এ নবীন সংগঠনের পক্ষ থেকে নেয়া সম্ভব হয়নি। যা কিছুটা হলেও ভুক্তভুগিদের হতাশ করেছে এবং আন্দোলনের গতিকে শ্লথ করেছে।
৭.ঢাকায় হেফাজতের আগমনকে কেন্দ্র করে আ’লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও সরকারী পেটুয়া বাহিনী পুলিশের আক্রমন ছিল বিভৎষ। এ ধরনের নৃশংসতা ও বিভৎষতার খন্ড চিত্র ৫মে পর্যন্ত কিছু মিডিয়া প্রকাশ করলেও সেদিন রাত ১২ টা থেকে সরকারের খবরদারীতে হাউসগুলো সম্প্রচারের সাহস পায়নি । বাইতুল মোকাররম মসজিদে আক্রমন, কুরআন পোড়ানোর নারকীয় উল্লাসে সরকারী বাহিনী একাকার হয়ে গেলেও সকল ঘটনার দায়ভার একক ভাবে সমাবেশে আসা মুসল্লিদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সারা বিশ্বের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার দুরভিসন্ধি চালানো হয়েছে। সাময়িক ভাবে আমজনতা বিভ্রান্ত হয়েছে।
ঐক্য যখন অনিবার্য
দেশে আবহমান কাল থেকে ইসলামের কৃষ্টি-কালচার ক্রমবর্ধমান বিস্তৃত হয়ে আসছে। যদিও এদেশে এক দিকে হিন্দুয়ানী কৃষ্টির মারাত্বক প্রভাব আছে অপর দিকে বৌদ্ধদের দীর্ঘকাল শাসন ক্ষমতায় অধিষ্টিত থাকায় তাদের আছর থেকেও এখানকার মানুষ মুক্ত হতে পারেনি। যার ফলে মুসলমান হয়ে ও নানা মুখী কুসংস্কারের বেড়াজালে তাদের জীবন আবদ্ধ। যা ইসলামের নয় তা ইসলামের বলে ধারণ করে নিয়েছে আবার যা ইসলামের তা অন্যায় ভুল বলে পরিত্যাগ করছে। এর পাশাপাশি বড় সময় ব্যাপ্তি অত্যাচারী ইংরেজ শাসক গোষ্ঠী দ্বারা মুসলমানরা ছিল নিস্পেষিত। মূলত:এ সকল অন্যায়-জুলুমবাজী ও কুসংস্কারের বিপরীতে ইসলামের সুমহান আদর্শ ছড়িয়ে দেয়ার সুমহান লক্ষে ইসলামের ঝান্ডাবাহী বীর মুজাহীদেরা এদেশে আগমন করেছিলেন । আলহামদুলিল্লাহ; তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে আজ ইসলাম স্থায়ী শক্তিতে পরিণত হতে চলছে।ইসলামের নকীবদের সে স্বপ্ন আজ বাস্তবে রুপ নিতে চলছে।
কিন্তু ইসলাম বিদ্বেষীরা ইসলামের অগ্রযাত্রাকে সহ্য করতে না পেরে আদর্শের লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে খুন,গুম জুলুম নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে।বাস্তব সত্য বিষয় হল এই- যারা মুমিন তারা সংগ্রাম করে আল্লাহর পথে আর যারা কাফের তারা সংগ্রাম করে তাগুতের পথে। কাফেররা বিজয়ী হওয়ার মানসে তাদের সকল কার্মকান্ড পরিচালনা করবে এটি খুবই স্বাভাবিক । তবে এই ষড়যন্ত্রে যদি মু’মিনরা ঘায়েল হয়ে নিস্তেজ হয়ে যায় তাহলে কাফেররা তাদের পরিকল্পনা মাফিক বিজয়ী হয়ে গেল! তাহলে কি আমরা নিস্তেজ হয়ে যাব? আমাদের ঈমান আকিদা কি বাতিল পন্থিদের কাছে বিকিয়ে দেব? নি:সন্দেহে মু’মিনরা তা হতে দিতে পারেনা । তাই বাতিলের সকল ষড়যন্ত্রের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে হলে নিজেদের মধ্যকার সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে এক কালেমার পতাকা তলে সামিল হওয়া এখন সময়ের অনিবার্য দাবী।
মুসলমানদের অজান্তেই দাড়ি- টুপি,দোয়াল্লিন-জোয়াল্লিন,আমীন জোরে বলা অথবা না বলা ,ইমামের সাথে ক্বিরাত পড়া না পড়া এগুলো নিয়ে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কিছু আলেম ওলামার অবস্থা দেখে মনে হয় এদের জন্মই নানামুখী ফেরকা-দলবাজী করে মুসলমানদের চিন্তার ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করা, তাদেরকে এসব থেকে নিবৃত করা অত্যন্ত জরুরী। কারণ এদের মধ্যে অনেকেই অর্থের বিনিময়ে ইসলাম বিদ্বেষীদের চক্রান্ত বাস্তবায়নে মনোনিত। যাদের কাজই হচ্ছে মুসলমানদের মধ্যে নানা মত ও গন্ডোগোলের সৃষ্টি করা এবং দ্বীনকে বিজয়ী শক্তি হিসাবে উত্থিত হতে না দেয়া। অথছ ফরজের ব্যাপারে ! মু’মিনদের জন্য ফরজিয়াত পালনের ব্যাপারে কোন আপোষ থাকতে পারেনা। যারা ফরয পালন করেনা তারাতো মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনা ।
সরকারের সাথে যারা যোগসাজোসে সুবিধা জনক অবস্থায় আছে তাদেরকে স্বরণ রাখা উচিত যে ইসলাম বিদ্বেষী সরকার কালক্রমে প্রয়োজন শেষে তাদের সাথেও রুঢ় আচরণ করবে এতে কোন সন্দেহ নেই। ইসলাম পন্থীদের দিয়ে ইসলাম বিদ্বেষী সরকার ইসলামের অগ্রযাত্রাকে অবরুদ্ধ করতে চায়। তাই আর কালক্ষেপণ নয় আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার অনিবার্য প্রয়োজনে সবাই এক আল্লাহর এবং এক রাসুলও এক কালিমার পতাকা তলে আলেম-ওলামারা মুসলিম মিল্লাতকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই কেবলমাত্র আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব, শহীদদের রক্তের বদলা নেয়া সম্ভব।আল্লাহর জমিনে আল্লাহর রাজ কায়েমের মাধ্যমে শান্তিময়,কল্যাণময় সমাজ প্রতিষ্টা করা সম্ভব।

zabbarics@gmail.com
১৪ মে ২০১৪, ঢাকা


Leave a Reply