শহীদদের রক্তে ধুয়ে মুছে যায় জনপদের সকল কালিমা, উচ্চকিত হয় দৃঢ়পদে তাকবীর ধ্বনি

11. March 2015 Uncategorized 0

১১ মার্চ ইসলামী ছাত্রশিবির ঘোষিত শহীদ দিবস। ১৯৮২ সালের ১১ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার চত্বরে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত নবাগত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছাত্রমৈত্রী, জাসদ, ছাত্রলীগের অতর্কিত এবং নিষ্ঠুর হামলায় শাহাদাত বরণ করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী সাব্বির, হামিদ, আইয়ুব, জাব্বার।

১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সাব্বিরই ছিলেন ছাত্রশিবিরের ১ম শহীদ। সেদিন লোহার রড, পাইপগান, দা, কিরিচ দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয় সাব্বিরকে, ইটের উপর মাথা রেখে আরেকটি ইট দিয়ে চুর্ণ-বিচুর্ণ করে মাথা থেকে আবদুল হামিদের মগজ বের করা হয়। মারাত্নক আহত আবদুল জাব্বার এবং আইয়ুব পরবর্তীতে শাহাদাৎ বরণ করেন। ১১ মার্চ ১৯৮২ সালের সেই দিনে আহতদের গগণ বিদারী চিৎকারে শিক্ষানগরী খ্যাত রাজশাহীর আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়েছিল। সারাদেশের মানুষ ধিক্কার জানিয়েছিল প্রগতিশীল দাবিদার মানুষ নামক রক্তচোষা দানবদেরকে। আহতদের পাশে দাঁড়াতে এবং সহানুভুতি জানাতে তৎকালিন রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার ছুটে গিয়েছিলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তিনি বর্বর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুচিকৎসার নির্দেশ দেন।

১৯৮২ সালের সেই শাহাদাতের পর থেকেই ছাত্রশিবিরকে শেষ করে দেয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন-হামলা করা হয়েছে। এখনো হায়েনারা ছাত্রশিবিরকে নিঃশেষ করে দেয়ার ঘৃণ্য জিঘাংসার মিশন থামায়নি। শহীদি কাফেলার নিবেদিত ২২০ টি তাজা প্রাণ শাহাদাতের পেয়ালা পান করেছেন এই ৪৩ বছরের পথ পরিক্রমায়। এই শহীদেরা আমাদের প্রেরণার বাতিঘর, মহান আল্লাহর সুপ্রিয় মেহমান, চির অমর, জান্নাতের পাখি। শহীদদের রক্তে ধুয়ে যায় জনপদের সকল কালিমা, উচ্চকিত হয় দৃঢ়পদে তাকবীর ধ্বণি। শাহাদাতের সেই সিড়ি বেয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির তার মঞ্জিলে পানে ছুটে চলছে অবিরাম গতিতে। এদেশে শহীদদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে আল্লাহর দ্বীনের পতাকা উড্ডীন হবেই হবে, ইনশাল্লাহ।
আল্লাহর পথে সকল শহীদদের তিনি কবুল করুন। আমীন।


Leave a Reply