দেশটা মীরজাফরদের কবলে….

দেশটা মীরজাফরদের কবলে….
ইতিহাসের মীরজাফর ক্ষমতান্ধে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল…..। নিজের জাত ভাই ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল! কোন ভাবে তাকে নিবৃত করা যায়নি…। যে ষড়যন্ত্র দেশের মহাবিপর্যয় ডেকে এনেছিল। পরবর্তীতে তার পরিনতি হয়েছিল চরম শোচনীয়। এ’কুল ও’কুল দু’কুল হারিয়েছিল মীরজাফর…..।
স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও আজ ভাবতে অবাক লাগে দেশে এখনও অনেক মীরজাফর। লোভে তারা বোধ-বিবেকহীন হয়ে পড়েছে। ক্ষমতার কাছে এরা জাতির স্বকীয়তাবোধ-বিশ্বাস সব বিকিয়ে দিয়েছে। অবৈধ কায়দায় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে দেশ, গণতন্ত্র, মানুষের অধিকারের সংরক্ষকের বুলি আওড়িয়ে এরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের অবৈধ ক্ষমতালিপ্সুতা তাদেরকে অন্ধ করে ফেলেছে। এদের বিষাক্ত ছোঁবলের অক্টোপাশে দেশের মানুষ দিশেহারা। এরা দেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়িতে পরিণত করেছে। এদের রক্তচোষা দানবিকতার কাছে মানুষের বোঁধ, বিবেক, সরল বিশ্বাস, মানবিকতা সব কিছু ভেঙ্গেচুড়ে নিঃশেষ হতে চলছে। যার পরিণতিতে আজ অবৈধকে বৈধ, স্বৈরতন্ত্রকে গণতন্ত্র, প্রতিবাদকে অপবাদ ও নির্লজ্জ মিথ্যাচারকে খাঁটি সত্যাচার হিসেবে গম্ভীর অকৃত্রিমতার ছাপে চালিয়ে দিয়ে বুক ফুলিয়ে ওরা অট্টহাসিতে মেতে উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যাবহার করে সকল অপকর্মের গ্লানি অন্যের উপর চাপিয়ে দিয়ে নতুন নতুন অপকর্মে ঝাপিয়ে পড়ছে। এরাই নাকি দেশপ্রমিক! গণতন্ত্র রক্ষাকারী!! গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় দরাজকন্ঠী!!!

এদের কি বিভৎষ চেহারা তা ২৮ এপ্রিল ২০১৫ সালের তিন সিটি (ঢাকা উঃ/ঢাকা দঃ/চট্রগ্রাম) নির্বাচনে জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে। যার প্রলয়ঙ্কারীতা ২৯ এপ্রিল ১৯৯১ সালকেও হার মানিয়েছে। ২৯ এপ্রিল’৯১ সালে অনেক মানুষ হতাহত হয়েছিল, কিন্তু ২৮ এপ্রিল’১৫ সালের সিটি নির্বাচন দেশের মানুষের বোঁধ, বিবেক ও বিশ্বাসকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। অথচ এই বিষয়গুলি দেশ-জাতির সামনে এগুনোর জন্য বড় অমূল্য সম্পদ।

বিশ্বমিডিয়া, সুশীল সমাজ, আমজনতা, বিবেকবান মানুষ মাত্রই একবাক্যে এই নির্বাচনকে তামাশার নির্বাচন হিসাবে গণ্য করেছে। লক্ষ লক্ষ (তরুণ) নতুন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হল। ভোট শুরুর আগেই ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষ। এ যেন “আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব”। নিজেকে নিজে ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পেলাম না। তাহলে কি শাসকবর্গের কাছে এই আমার অধিকার সুরক্ষার নমুনা?….

এ নির্বাচন সম্পূর্ন একপক্ষীয়। যার আয়োজক নখদন্তহীন পা চাটা নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচনে পুলিশের নির্বিকার নির্লজ্জ দলীয় ক্যাডারের ভূমিকা অতিতের সকল ইতিহাসকে ঢেকে দিয়েছে। কোন কেন্দ্রে বিরোধীদলীয় প্রার্থীর এজেন্টকে ঢুকতে দেয়া হয়নি, বিরোধীমতের ব্যক্তি সন্দেহে শত শত ভোটার ও পোলিং এজেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টি করে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি, সেখানে পোলিং এজেন্টদের মারধোরসহ- অসংখ্য প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা…। যার ফলশ্রুতিতে ভোট বর্জন করলেন অধিকাংশ বিরোধী প্রার্থীরা। অথচ এরপরই হলো হাস্যকর ফলাফল প্রসব! ৪৩% ভোটকাস্ট। যেখানে নাগরিকগণ ভোটই দিতে পারলেন না, সেখানে এত % এলো কোথা থেকে? তাও দু’পক্ষকে ভোট (চুরির মাল) ভাগ করে দেয়া হল। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে কতবড় ভোট (চুরির মাল) সেক্রিফাইস!!!

এরপর কি প্রত্যক্ষ করল জাতি?
প্রধানমন্ত্রী বললেন এ যাবৎকালের সবচেয় সুষ্ঠু নির্বাচন, দেশে বিদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চাইতে অনেক সুষ্ঠু হয়েছে! বিরোধীপক্ষের উপর যত সব দোষ চাপালেন! ২০ দলকে রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে ধরাশায়ী(!) করলেন। হায়রে গণতন্ত্র! সাবাস গণতন্ত্র!! এমন অবৈধ ক্ষমতান্ধদের কি দোষে দুষ্টিত করবেন? মাঝে মাঝে মনে হয় দেশটা মীরজাফরদের কবলে ছেঁয়ে গেছে……। এরা নিজের দেশের জনগনের সাথে এমন তামাশায় কেন লিপ্ত?

হতাশার মাঝেও আশার আলো দেখি, শত অবান্তর বিধি-নিষেধ থাকা স্বত্ত্বেও জাতির বিবেক সাংবাদিকদের ভূমিকায়। হলুদের ভীড়েও সাদা! যাদের সত্য প্রকাশের মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হলো এ অবৈধ সরকারের অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এ ফ্যাসিষ্টদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়…..।


Leave a Reply