তাতে কি? তারা কি মানুষের বিশ্বাস আর ভালবাসাকে কেড়ে নিতে পারবে?

ক’দিন ধরে বেশ ক’টি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ও শহীদ কামারুজ্জামানের কবর জিয়ারাতে জনমানুষের আনাগোনা ও কবরে তাদের নামের আগে শহীদ শব্দ লেখায় গাত্রদাহে নানা ধরণের কল্পকাহিণী বানিয়ে জনশ্রোত ঠেকানোর জন্য এবং তাদের কবরের নামের ফলক উপড়ে ফেলার জন্য সরকার সহ সংশ্লিষ্টদের অতিমাত্রায় দৃষ্টি আকষর্ণ করতে দেখা যাচ্ছে।
অভিযোগঃ
রিপোর্টাররা রির্পোট করেছেন, জামায়াত ও ছাত্রশিবির তাদের নেতাদের মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পর নতুন কৌশল হিসেবে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কবরে লোকদের আনাগোনা বৃদ্ধি করছে এবং মানুষের মাঝে আবেগ সৃষ্টি করে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।তাদের অভিযোগ এটা প্রশাসনের নাকের ডগায় হচ্ছে কিন্তু প্রশাসন এর কোন বিহিত করছেনা। রির্পোটাররা এসব লিখতে গিয়ে ঘাদানি নেতা শাহরিয়ার কবির ও নাম না জানা কিছু গবেষকের (!) উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।সাথে ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটরের উদ্বেগের কথাও আলোকপাত করেছে। মোদ্দাকথা রির্পোটার ও উদ্বেগ প্রকাশকারী ব্যক্তিগণের মূল অভিযোগ হল তাদের কবরে প্রতিনিয়ত মানুষের আনাগোনা করা এবং কবরে নাম ফলকে শহীদ উল্লেখ থাকা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। এটাকে সহ্য করা যায়না; এটাকে ঠেকাতে হবে!
বাস্তবতাঃ
জামায়াত নেতাদের মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পর এলাকাবাসী, তাদের স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে প্রশাসন জানাজায় অংশগ্রহন করতে দেয়নি।কিন্তু তাদের প্রিয় মানুষ, প্রিয় নেতার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করা থেকে কেউ তাদের বিরত রাখতে পারেনি।জানাজায় অংশগ্রহন করতে না পারার ক্ষোভে এবং নেতার প্রতি ভালবাসার কারণে পরিস্থিতি হিতে বিপরীত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার, শতশত মানুষ কবর জিযারাত করতে আসার কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে এই দু’নেতা তাদের এলাকায় কতবেশী জনপ্রিয় ছিলেন! তাদের ব্যাপারে এলাকাবাসীর ভালবাসা ও সম্পর্ক কত গভীরে!! তাদের ব্যাপারে ছিলনা কোন অভিযোগ।নিয়মিত মানুষের আনাগোনার ঢল দেখে বুঝা যায় সারাদেশে দলের নেতা,কর্মী ও সাধারণ মানুষ ওনাদের কত ভালবাসত। নিয়মিত মানুষ অাসার বিষয়টি একেবারে ন্যাচারাল। জামায়াত ভাড়াটিয়ার রাজণীতিতে বিশ্বাসী নয়, এটি জাত শত্রুও জানে। বরং কারা ভাড়া করে কতিথ গণজাগরণ মঞ্চে লোক জড় করেছিল সবার তা জানা । জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামী সংগঠন।যে অভিযোগ তাদের নেতাদের ব্যাপারে দীর্ঘ ৪০ বছর পরে করা হয়েছে তারা সে দোষে দুষ্ট নয়। হঠাৎ করে এমন আজগুবি অভিযোগ তার দলের নেতা-কর্মী এবং বিবেকবান মানুষ মাত্রই বিশ্বাস করেনা। তাই তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা থেকে জনাব আব্দুল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামনের বিচারিক হত্যাককান্ডের পর তাদেরকে শহীদ হিসেবে অাখ্যায়িত করেছে।এতে দোষের কি অাছে? এদেশে ইসলামের অগ্রযাত্রা কি করে ঠেকানো যায়, যারা শয়নে স্বপনে চিন্তা-ফিকর করে কেবল তারাই এমন গন্ডমূর্খের মত নিজের স্যাকুলার চিন্তা অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে চায়! কারণে অকারণে অভিযোগ তোলে।
জামায়াত নেতা জনাব আব্দুল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামের মৃত্যুদন্ডের রায়কার্যকর সহ পুরো ট্রাইবুনালের ব্যাপারে জামায়াতের আগে থেকে রাজণৈতিক অবস্থান সুস্পষ্ট ছিল। আইনি ভাবে জামায়াত এর মোকাবেলা করলেও এ ট্রাইবুনালের বিচারিক স্বচ্ছতা নিয়ে জামায়াত আগে থেকে প্রশ্ন তুলেছিল।সময়ের পরিক্রমায় চলতি ট্রাইবুনালের নানাবিধ ত্রুটি বিচ্যুতি আরো স্পষ্ট হচ্ছে। যার কারণে দেশে- বিদেশে এর বিচারিক কার্যক্রমকে অস্বচ্ছ ও রাজৈনতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে অভিযোগ উঠেছে। যার দরুন রায় কার্যকরকালে পুরো দুনিয়ার মানবাধিকার সংগঠন, বিভিন্ন রাষ্ট্র ও কনর্সান ব্যাক্তিবর্গ রায় কার্যকর না করতে রাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে।
যেহেতু জামায়াত রাষ্ট্রের মানুষের কল্যাণে কাজ করে এবং দেশের আইন আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সেহেতু এটিকে যতটুকু সম্ভব তারা গণতান্ত্রিক ও রাজণৈতিক ভাবে মোকাবেলার জন্য চেষ্টা করছে। এরপর ও একপেশে ভাবে যারা চিন্তা করছেন সেই স্বৈরশাসকের মতই, যা এখন দেশে দিব্যি চলছে -“আমি আমার মত বিচার করব, যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে করব, কোন অভিযোগ করা যাবেনা,কান্নাকাটি করা যাবেনা, আহ,উফ ও না”।
আফসোস! রাজণৈতিক বিচারিক হত্যাকান্ডের পর ও এসব পাষান্ডদের (কথিত গবেষক)কাছে মৃত্যুদন্ডকার্যকর হওয়া ব্যাক্তিদের স্বজন, হিতাকাঙ্খীদের একটু কবর জিয়ারাত এবং শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত করা( ধর্মীয় বিশ্বাস-[যারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করেত গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন তারাই শহীদ]) সহ্য হচ্ছেনা।
হয়তবা এমন অভিযোগ আমলে নিয়ে, বাস্তবতা বিবর্জিত হয়ে পাষাণ সরকার আবারো রাজণৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে সেই কবরস্থ মানুষকেও গদির জন্য হুমকি মনে করে, সহ্য করতে না পেরে একসময় কবরে মানুষের আনাগোনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করবে, শহীদ শব্দে লিখা নাম ফলক উপড়ে ফেলবে, শহীদ কামারুজ্জামানের কফিনের তাজা খুনে স্পর্শিত যুবকের হাতের দেয়ালের ছাপ মুছে ফেলবে! তাতে কি? তারা কি মানুষের বিশ্বাস আর ভালবাসাকে কেড়ে নিতে পারবে? শহীদের বিশেষ গুণাবলী এটিই তারা মরে ও মরেনা, তারা মানুষের মাঝে বেঁচে থাকে অনাদিকাল। মানুষ তাদের জীবন-কর্ম থেকে খুঁজে ফেরে নতুন জীবনের সন্ধান।
https://www.facebook.com/AbdulZabbarICS/posts/1119910671356254?fref=nf&pnref=story


Leave a Reply